
সুন্দরবনের আদলে ঘেরা হচ্ছে পুরুলিয়ার গ্রাম।
শেষ আপডেট: 25 December 2024 14:32
সুমন বটব্যাল
পাঁচদিন পরেও ধরা যায়নি বাঘিনিকে! এদিকে গ্রামবাসীদের ক্ষোভের পারদ চড়ছে। দু'কুল রক্ষায় এবার সুন্দরবনের স্টাইলে জাল দিয়ে ঘেরা হল পুরুলিয়ার গ্রাম!
উদ্দেশ্য একটাই, নতুন করে যেন গ্রামের কোনও গবাদি পশুর ওপর বাঘিনি জিনাত হামলা না করতে পারে। এক বনকর্তার কথায়, "এছাড়া কোনও উপায় ছিল না। বাঘিনি জিনাত যেভাবে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে, তাতে এরপর গ্রামবাসীদের শান্ত রাখা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। বাধ্য হয়েই সুন্দরবনের ব্যাঘ্র প্রকল্পের স্টাইলে পুরুলিয়ার গ্রামও জাল দিয়ে ঘেরা হচ্ছে।"
পুরুলিয়ার রাইকা পাহাড় সংলগ্ন রাহামদা গ্রাম। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ি থেকে গত শনিবার রাতে এই গ্রাম সংলগ্ন পাহাড়ের জঙ্গলে জিনাত ঘাঁটি গেড়েছে। সেই থেকে পুরুলিয়ার এই তল্লাটেই লুকোচুরি খেলছে জিনাত।
বাঘিনিকে বাগে আনতে ব্রেক ফাস্ট থেকে ডিনার, জিনাতের জন্য হাজারও আয়োজন রেখেছে বন দফতর। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। খাঁচায় টোপ হিসেবে রাখা ছাগল, মোষ বা শুয়োরের পরিবর্তে গ্রাম লাগায়ো জঙ্গল থেকে গবাদি পশু শিকার শুরু করেছে বাঘিনি। গ্রামের একাধিক গবাদি পশু সোমবার থেকেই নিখোঁজ। মঙ্গলবার তিনটি ছাগলের ক্ষত বিক্ষত দেহ উদ্ধারের পর থেকেই গ্রামবাসীদের ক্ষোভের পারদ চড়তে শুরু করে।
লালগড়ের স্মৃতি উস্কে তাঁরা বনকর্তাদের এও বলেছেন, "আপনারা তো অনেক চেষ্টা করলেন। এবার আমাদের ওপর বাঘিনির দায়িত্ব ছেড়ে দিন। আমরাই বুঝে নিচ্ছি।"
'পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যেতে পারে', আন্দাজ করে এরপরই সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ধাঁচে জাল দিয়ে ঘেরা হচ্ছে পুরুলিয়ার আস্ত গ্রাম। একই সঙ্গে গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে কড়া নজরদারি শুরু করেছে বন দফতরের ১৫টি টিম। তদারকিতে রয়েছেন দক্ষিণ-পশ্চিম চক্রের মুখ্য বনপাল বিদ্যুৎ সরকার, পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ, কংসাবতী দক্ষিণ বনবিভাগের ডিএফও পূরবী মাহাতো এবং সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের একাধিক আধিকারিকরা।
বনকর্তাদের আশা, জাল দিয়ে গ্রাম ঘেরার পর জিনাতের খাবারে টান পড়বেই। সেক্ষেত্রে সে নিজের অবস্থান বদলাতে পারে। আর তখনই ঘুমপাড়ানি গুলি দিয়ে জিনাতকে বাগে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বন দফতরের। এখন দেখার কী হয়!