দ্য ওয়াল ব্যুরো : শনিবার বিকালে আচমকাই পদত্যাগ করেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি (vijay rupani)। আগামী বছরের শুরুতেই বিধানসভা ভোট হবে গুজরাতে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিজের রাজ্যে ভোটে হারাজেতার ওপরে বিজেপির প্রেস্টিজ অনেকাংশে নির্ভর করছে। এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী কেন ইস্তফা দিলেন জানা যাচ্ছে না।
এর আগে জুলাই মাসে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা ইস্তফা দিয়েছিলেন। উত্তরাখণ্ডে মাত্র চার মাসের মধ্যে ইস্তফা দিয়েছিলেন দুই মুখ্যমন্ত্রী। তাঁরা হলেন ত্রিবেন্দ্র রাওয়াত এবং তিরথ নাথ সিং। উত্তরাখণ্ডেও ভোট হবে আগামী বছর।
কর্নাটকে বিজেপির একাংশ ইয়েদুরাপ্পা ও তাঁর ছেলের ওপরে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী বদল করার জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে আবেদন জানাচ্ছিলেন। একইভাবে উত্তরাখণ্ডে দলে গোষ্ঠী কোন্দলের জেরে সরতে হয়েছিল ত্রিবেন্দ্র রাওয়াতকে। কিন্তু তাঁর বদলে যাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিল, সেই তিরথ নাথ রাওয়াতও নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। রাজ্যের বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে বলেছিলেন, উল্টোপাল্টা কথা বলে তিরথনাথ রাজ্যের বহু মানুষকে রাগিয়ে দিয়েছেন। তিনি একবার ভুল করে বলেছিলেন, ব্রিটেন নয়, আমেরিকা ২০০ বছর ভারতকে শাসন করেছিল। এই মন্তব্যেও সকলে অবাক হয়েছেন।
চলতি বছরের শুরুতে উত্তরপ্রদেশেও বিজেপির একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে যোগী আদিত্যনাথকে সরানোর জন্য তৎপর হয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, যোগী সহজে বিধায়ক বা সাংসদদের সঙ্গে দেখা করেন না। কোভিড অতিমহামারী নিয়ন্ত্রণ করতেও তিনি ব্যর্থ।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তখন উত্তরপ্রদেশে পাঠিয়েছিলেন দুই প্রবীণ নেতা বি এল সন্তোষ ও রাধা মোহন সিংকে। তাঁরা রাজ্যে অনেকের সঙ্গে কথা বলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে রিপোর্ট দেন। এর পরে দিল্লির নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন। যোগীকে সরানোর প্রশ্নই নেই।
শনিবার ইস্তফা দেওয়ার পরে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি বলেন, "পরবর্তী নেতৃত্ব গুজরাতের উন্নয়নকে এগিয়ে নিয়ে যাবে"। পরে তিনি বলেন, "আমি বিশ্বাস করি, নতুন নেতৃত্বে রাজ্যের উন্নয়ন চলবে। প্রশাসনে নতুন এনার্জি আসবে। সেকথা ভেবেই আমি ইস্তফা দিয়েছি।"
রূপানির সঙ্গে তাঁর পুরো মন্ত্রিসভা ইস্তফা দিয়েছে। এই অবস্থায় তিনটি পথ খোলা আছে বিজেপির সামনে। প্রথমত, আর একজনকে মুখ্যমন্ত্রী পদে নিয়োগ করা। তাঁর সঙ্গে অন্যান্য মন্ত্রীকেও নিয়োগ করতে হবে। দ্বিতীয় পথ হতে পারে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা। তৃতীয় পথ হতে পারে বিধানসভা নির্বাচন এগিয়ে আনা।
বিজেপি সূত্রে খবর, ভোট এগিয়ে নিয়ে আসার কোনও পরিকল্পনা নেই। সম্ভবত নতুন কাউকে মুখ্যমন্ত্রী নিয়োগ করা হবে। সদ্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদে শপথ নেওয়া মনসুখ মান্ডব্য গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন পদত্যাগী উপমুখ্যমন্ত্রী নীতিন প্যাটেল। একটি সূত্রে শোনা যাচ্ছে, রাজ্যসভার সদস্য মনসুখ মান্ডব্য ইতিমধ্যে বিজয় রূপানির বাড়িতে গিয়েছেন। কেন রূপানি এবং তাঁর মন্ত্রীরা পদত্যাগ করলেন জানা যাচ্ছে না।