দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, ভারতের বিভিন্ন ব্যাঙ্ক থেকে ন’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়েছেন শিল্পপতি বিজয় মালিয়া। তিনি নিজে অবশ্য বলেছেন, সুযোগ পেলেই সব ঋণ শোধ করে দেবেন। কিন্তু তাঁকে ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ ঘোষণা করার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডায়রেক্টরেট। সেই আবেদনের ওপর কোর্ট রায় দিতে পারে শনিবারই। যদি আর্জি মঞ্জুর হয়, তাহলে বিজয় মালিয়া শিল্পপতিদের মধ্যে প্রথম ‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ বলে চিহ্নিত হবেন।
‘পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী’ আইনে গতবছর আগস্টেই সই করেছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। যাঁরা ভারতে নানা অর্থনৈতিক অপরাধ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের ধরার জন্যই ওই আইন করা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি পরিমাণ অর্থ তছরুপের জন্য যাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এবং পুলিশের হাত এড়াতে যাঁরা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধী বলে গণ্য করা হবে। ওই মামলার বিচার হবে বিশেষ দুর্নীতি দমন আদালতে।
গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকজন শিল্পপতির নাম জানা গিয়েছে যাঁরা এদেশে বিপুল পরিমাণ টাকা তছরুপ করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের অন্যতম হলেন নীরব মোদী ও মেহুল চোকসি। মেহুল ও তাঁর ভাইপো তথা হিরে ব্যবসায়ী নীরবের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে গিয়েছেন। মেহুল এখন অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডায় বাস করেন। তিনি অ্যান্টিগুয়ার নাগরিকত্বও নিয়েছেন। এই অবস্থায় তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনা কতদূর সম্ভব হবে তা নিয়ে সন্দেহ আছে অনেকেরই।
বিজয় মালিয়া এখন রয়েছেন ব্রিটেনে। তাঁকে বন্দি করে ভারতে আনার জন্য সেদেশের আদালতে আর্জি জানিয়েছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। গত মাসে ব্রিটেনের আদালতের বিচারক বলেন, জালিয়াতির মামলায় বিচারের জন্য বিজয় মালিয়াকে ভারতে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে।
মালিয়া আদালতে বলেছিলেন, ভারতের জেলের ভিতরে বন্দিদের খুব খারাপ পরিবেশে রাখা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে তাঁর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার সম্ভাবনা আছে। তখন ভারতের গোয়েন্দারা জেলের ভিতরকার ভিডিও চিত্র আদালতে পেশ করেন।
২০১৬ সালে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড তাঁর বিরুদ্ধে বন্দি প্রত্যর্পণের ওয়ারেন্ট জারি করে। তিনি এখন জামিনে মুক্ত আছেন।