দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা ভয়ে অনেকেই ইদানীং চুল কাটা বন্ধ রেখেছেন। কিন্তু এনার ব্যাপারটা মোটেও তা নয়। ইনি সেই ছেলেবেলা থেকেই চুলে কাঁচি ছোঁয়াননি। চিরুনি ব্যবহারও নৈব নৈব চ। বাড়তে বাড়তে চুলের দৈর্ঘ্য হয়েছে পাঁচ মিটার। কিন্তু তা নিয়েও দিব্যি আছেন ভিয়েতনামের মেকং ডেলটা এলাকার বাসিন্দা নগুয়েন ভ্যান সিয়েন। ৯২ বছরের সিয়েনের বিশ্বাস, যা নিয়ে জন্মেছেন তা কেটে ফেলা উচিত নয়। গেরুয়া পাগড়িতে ঢাকা বিশাল চুলের বোঝা নিয়েই কাটিয়ে চলেছেন বছরের পর বছর।
আরও পড়ুন
চুল কাটলেই নাকি তিনি মরে যাবেন। এমনটাও বিশ্বাস করেন এই বৃদ্ধ। হো চি মিন সিটি থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে মেকন ডেলটা এলাকায় থাকেন তিনি। সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে সিয়েন জানিয়েছেন, "চুল কাটলেই আমি মরে যাব বলে বিশ্বাস করি। আমি তাই কোনও বদল চাই না। এমনকি চিরুনিও ব্যবহার করি না।" কিন্তু এত বড় চুল রক্ষা করাও তো কঠিন! সিয়েন জানিয়েছেন, চুল যাতে ভিজে না যায় বা নোংরা না হয় তার জন্য তিনি সব সময়ে মাথা ঢেকে রাখেন। এত লম্বা চুল নিয়েও তৃপ্ত নন তিনি। সিয়েন এমনটাও জানিয়েছেন যে, নয় শক্তি ও সাত দেবতার আরাধনা করেন তিনি। প্রার্থনা করেন চুল যাতে আরও বড় হয়।

একেবারে ছেলেবেলায় অবশ্য চুল কাটতে হয়েছে কয়েকবার। সিয়েন তখন স্কুলে পড়তেন। স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী চুলে কাঁচি পড়েছিল। কিন্তু সেটাও অল্প দিনের জন্য। তৃতীয় শ্রেণিতে ওঠার পর থেকেই ঠিক করে নেন, কখনও চুলে চিরুনি দেবেন না এবং ধোবেন না। সেটাই চলছে এখনও।

তবে পুরনো চুলের কথা এখনও মনে আছে ৯২ বছরের সিয়েনের। তিনি সংবাদসংস্থাকে বলেন, "আমার চুল খুব কালো, ঘন আর শক্ত ছিল। আমি নিয়মিত চুলে আঁচড়াতাম। জট ছাড়াতাম। কিন্তু যখন আমি ঈশ্বরের নির্দেশ পেলাম তখনই সেসব বন্ধ করে দিই।" এর পর থেকেই আর চুলের দিকে নজর দেননি। তারা তাদের নিজের মতো বাড়তে থেকেছে। বাড়তে বাড়তে ৮০ বছরে আজকের চেহারায় এসেছে।
https://twitter.com/Reuters/status/1299653016707047425
এখন বাবার চুলের খেয়াল রাখেন সিয়েনের পঞ্চম ছেলে লুয়ম। লম্বা চুল গুটিয়ে পাগড়ি বেঁধে দেন। ৬২ বছরের লুয়ম এটাকে পবিত্র কর্ম বলেই মনে করেন। তিনিও বিশ্বাস করেন যে চুল কাটার সঙ্গে বাবার মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। বিশাল চুলের মালিক সিয়েন 'দুয়া' ধর্ম পদ্ধতিতে বিশ্বাসী। শোনা যায়, এই ধর্ম পদ্ধতির প্রতিষ্ঠাতা শুধু নারকেল খেয়ে বেঁচে থাকতেন। এখন 'দুয়া' ধর্ম ভিয়েতনামে নিষিদ্ধ।