
শেষ আপডেট: 28 June 2020 11:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬২ জন পাকিস্তানি পাইলটকে বসিয়ে দিল একাধিক এয়ারলাইন্স! অভিযোগ, তাঁদের সকলেরই লাইসেন্স ভুয়ো। বুধবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে এ কথা জানিয়েছেন সেই দেশের অসামরিক পরিবহণ মন্ত্রী গুলাম সরওয়ার খান৷ তিনি জানিয়েছেন, দেশের অধিকাংশ বাণিজ্যিক বিমান চালকদের একটা বড় অংশই হয় ভুয়ো লাইসেন্স রাখছিলেন নয়তো তাঁরা অসৎ উপায়ে পাইলট হওয়ার পরীক্ষায় পাশ করেছেন৷
এই তথ্য সামনে আসার পরেই মধ্য এশিয়ার একাধিক বিমান সংস্থা পাকিস্তানি পাইলটদের বসিয়ে দিয়েছে। ভিয়েতনামের বিভিন্ন সংস্থাও বাতিল করেছে পাকিস্তানি পাইলটদের।
গত মাসেই করাচিতে ভেঙে পড়েছিল পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। মৃত্যু হয়েছিল ৯৭ জনের মৃত্যু৷ সেই দুর্ঘটনা কী করে ঘটল, তার তদন্ত করতে গিয়ে অন্য একটি দুর্ঘটনা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছিল পাক সরকার। তাতেই এমনই উদ্বেগজনক তথ্য এসেছে সরকারের হাতে৷
দ্বিতীয় বিমান দুর্ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটে। কী করে দুর্ঘটনা ঘটল, পাইলটের কোনও ত্রুটি ছিল কিনা, তার তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, যে তারিখে ওই বিমামটির চালকের লাইসেন্স রিনিউ করা হয়েছে, সেই তারিখটি আদতে সরকারি ছুটির দিন। ফলে সেদিন কোনওভাবেই তাঁর লাইসেন্স পুনর্নবীকরণের পরীক্ষা হওয়া সম্ভব নয়৷ এর পরেই আরও তদন্ত থেকে জানা যায়, তাঁর লাইসেন্সটিই ভুয়ো! কোনও পরীক্ষা দিয়ে সরকারি লাইসেন্স পাননি তিনি।
মন্ত্রী গুলাম সরওয়ার জানান, সে দেশে মোট ৮৬০ জন পাইলট রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এখনএ পর্যন্ত ২৬২ জন পাইলটের লাইসেন্সই নকল৷ কিছু পাইলটের কোনও প্রকার কাগজই নেই, কিন্তু তার পরেও তাঁরা লাইসেন্স সংগ্রহ করেছিলেন।
এই তথ্য জানার পরেই পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের কাছে এ বিষয়ে তথ্য চাওয়া হলে সেই সংস্থার এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন, তাঁদের ৪৩৪ জন বিমানচালকের মধ্যে ১৫০ জনের লাইসেন্সই হয় ভুয়ো নয় সন্দেহজনক৷ এই ১৫০ জন বিমানচালককেই অবিলম্বে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের সরকারি বিমানসংস্থার ওই মুখপাত্র৷
এর ফলে ওই এয়ারলাইন্সের বেশ কয়েকটি বিমানও বাতিল করতে হতে পারে৷ এই ঘটনায় পাক বিমানগুলির যাত্রী সুরক্ষায় বড় প্রশ্ন উঠে গেল৷
গুলাম সরওয়ার জানিয়েছেন, পাক সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এসব পাইলটদের বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে যাতে তাঁরা আর কোনও বিমান পরিচালনা করতে না পারেন। ফৌজদারি মামলাও দাসের হবে তাঁদের বিরুদ্ধে। কারণ তাঁরা এতদিন বহু মানুষের জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছেন।