জামিয়ার লাইব্রেরিতে পড়ুয়ারা মুখোশ পরে কী করছিলেন? হামলার ভিডিও নিয়ে পাল্টা দাবি বিজেপির
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পুলিশ। এবার সেই হামলার ভিডিও প্রকাশ করা হল জামিয়ার প্র
শেষ আপডেট: 16 February 2020 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে ঢুকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল পুলিশ। এবার সেই হামলার ভিডিও প্রকাশ করা হল জামিয়ার প্রতিবাদী সংগঠনের তরফে। সেই ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে লাইব্রেরিতে ঢুকে নির্বিচারে লাঠি চালাচ্ছে পুলিশ। এই ভিডিও প্রকাশ হতেই দেশজুড়ে নিন্দা শুরু হয়েছে।
১৫ ডিসেম্বরের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে জামিয়া কো-অর্ডিনেশন কমিটির তরফে। এই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে বেশ কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা করছেন। এমন সময় ঢুকে পড়ল একদল পুলিশ। তাদের শরীরে বর্ম। মুখে রুমাল বাঁধা। লাইব্রেরিতে ঢুকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে তারা। এই দেখে বাঁচার জন্য ছুটোছুটি করত থাকেন ছাত্র-ছাত্রীরা। কিন্তু তার পরেও বাঁচতে পারেননি তাঁরা। নির্বিচারে লাঠি চালায় পুলিশ।
যদিও এই ভিডিওকে অস্ত্র করেই পাল্টা অভিযোগ তুলেছে বিজেপিও। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্যর দাবি, "লাইব্রেরিতে মুখোশ পরে পড়ুয়ারা কী করছিলেন? এক দিকে ভাল, যে আততায়ীরা নিজেরাই তাঁদের পরিচয় প্রকাশ্যে এনেছেন। তদন্তকারীরা এই ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে এবার ব্যবহার করুক।" যদিও অমিত মালব্যর দাবি নস্যাৎ করেছে জামিয়া অ্যাকশন কমিটি। তাঁদের পাল্টা দাবি, "কাঁদানে গ্যাসের থেকে বাঁচতে মুখে মুখোশ পরেছিলেন পড়ুয়ারা। কাউকে পাথর হাতে স্লোগান তুলতে দেখা যায়নি।"
দেখুন অমিত মালব্যর টুইট।
https://twitter.com/amitmalviya/status/1228964165106176000?
এই ভিডিও নিয়ে বিজপিকে আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পূর্ব উত্তরপ্রদেশের দায়িত্বে থাকা প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া টুইট করে বলেছেন, “দেখুন কী ভাবে ছাত্র-ছাত্রীদের মারছে পুলিশ। একজন ছাত্র বই পড়ছে। কিন্তু পুলিশ তাকে ক্রমাগত মারছে। এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও দিল্লি পুলিশ মিথ্যে কথা বলেছিলেন যে তাঁরা লাইব্রেরিতে ঢোকেননি। এই ভিডিও প্রকাশের পরেও যদি দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে সরকারের উদ্দেশ্য সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
এই ভিডিও প্রকাশ পাওয়ার পরেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এই ভিডিও সামান্য একটা অংশ মাত্র। পুরো ঘটনাটা এর থেকেও অনেক বেশি নৃশংস। এই হামলায় একাধিক পড়ুয়া আহত হন। একজন ছাত্রের চোখ গুরুতর ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ভিডিও সামনে আসতে নেটিজেনরা বলছেন, এবার তো প্রমাণ হয়ে গেল। কী বলবে এবার দিল্লি পুলিশ। এতদিন তো তারা অভিযোগ অস্বীকার করছিল। কিন্তু সবাই দেখতে পেলেন, কী বর্বরতার সঙ্গে হামলা চালিয়েছে পুলিশ।
গত ১১ ডিসেম্বর নাগরিকত্ব আইন পাশ হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে দেশজুড়ে। এই আইনের প্রতিবাদে ১৫ ডিসেম্বর একটি মিছিল বের করেন জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা। সেই মিছিল চলাকালীনই পুলিশের সঙ্গে তাঁদের গণ্ডগোল হয়। এরপরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে নির্বিচারে ছাত্র-ছাত্রীদের মারধর করে পুলিশ, এমনটাই অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছিল। তার সমর্থনে এবার ভিডিও প্রকাশ করা হল।