দ্য ওয়াল ব্যুরো : শাহিনবাগে প্রতিবাদের নাম করে প্রকাশ্যে চলছে যৌনতা। এই বলে একটি ভিডিও আপলোড করা হয়েছিল টুইটারে। পরে জানা যায়, ওই ভিডিও মিথ্যা। অনেকে আগের একটি ছবিকে ব্যবহার করা হচ্ছে শাহিনবাগের আন্দোলনের বিরুদ্ধে।
গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান চলছে শাহিনবাগে। গত রবিবার ওই ভিডিওটি শাহিনবাগের নামে টুইটারে আপলোড করা হয়। ক্রমশ তাতে ২ হাজার লাইক পড়ে। ১ হাজার জন রিটুইট করেন। আরও কয়েকটি মাইক্রোব্লগিং সাইটে ওই ভিডিও দিয়ে বলা হয়, এটা শাহিনবাগের ছবি।
পরে জানা যায়, ২০১৮ সালের মে মাস থেকে ওই ভিডিওটি ঘুরছে নেট দুনিয়ায়। অর্থাৎ শাহিনবাগের অবস্থান শুরুর অনেক আগে ওই ছবি তোলা হয়েছিল। শাহিনবাগ নিয়ে মিথ্যা প্রচার হয়েছে এর আগেও। গত জানুয়ারিতে বিজেপির আইটি সেলের অমিত মালব্য দাবি করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে দিয়েছে কংগ্রেস।
সুপ্রিম কোর্টে শাহিনবাগ নিয়ে মামলার শুনানি হবে ২৩ মার্চ। শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মধ্যস্থতা করার জন্য শীর্ষ আদালত দুই মধ্যস্থতাকারীকে নিয়োগ করেছিল। তাঁরা হলেন অ্যাডভোকেট সঞ্জয় হেগড়ে ও সাধনা রামচন্দ্রন। তাঁরা মুখ বন্ধ খামে এসম্পর্কে রিপোর্ট পেশ করেছেন।
শাহিনবাগে আন্দোলনের জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ফরিদাবাদ থেকে নয়ডা যাওয়ার রাস্তা। ৬৯ দিন পরে সেই রাস্তার একটা অংশ খুলেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে এই ব্যবস্থা করেছেন আইনজীবীরা। যদিও এখনও নয়ডা থেকে দিল্লি যাওয়ার রাস্তা বন্ধ রয়েছে।
রাস্তার একটা অংশ খোলায় যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধা হবে বলেই জানিয়েছে পুলিশ। এতদিন এই রাস্তা বন্ধ থাকায় নয়ডা দিল্লি ফ্লাইওয়ের উপর চাপ বাড়ছিল। সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, আন্দোলন হতেই পারে, কিন্তু সেটা সাধারণ মানুষের সমস্যা করে নয়। তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের তরফে দুই আইনজীবী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা এই সমস্যার কথা বোঝান। সেইসঙ্গে দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশের কথাও তাঁদের বলেন। তারপরেই একদিকের রাস্তা খুলতে রাজি হন আন্দোলনকারীরা। কিন্তু যতদিন না নাগরিকত্ব আইন তুলে নেওয়া হচ্ছে, ততদিন তাঁরা শাহিনবাগের আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।