দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরফের মধ্যে খালি গায়ে শিকার খুঁজছে সে। সঙ্গে তার ছেলে। তার গায়েও একটা পাতলা কালো হাতকাটা জ্যাকেট ছাড়া কিছু নেই। আলাস্কার ইস্থার আইল্যান্ডের একটি ভিডিও-য় এমনটাই ধরা পড়েছে। তাদের হাতে রাইফেল, বন্দুক। বরফে ঘুরতে ঘুরতে তারা পৌঁছল একটি গাছের নীচে। গাছের গোড়ায় বরফের মধ্যে ঘুমিয়ে রয়েছে এক মা ভালুক ও তার দুই ছানা। আচমকা গুড়ুম করে গর্জে উঠল তাদের বন্দুক! খুন হয়ে গেল দুই সন্তান-সহ মা ভালুক!
৪১ বছরের অ্যান্ড্রু রেনার এবং ১৮ বছরের ওয়েন রেনার অবশ্য জানত না, তাদের এই কীর্তি রেকর্ড হচ্ছে সরকারি বন দফতরের ক্যামেরায়। রক্তবন্যা বয়ে গেল সাদা বরফের উপর! সূত্রের খবর, আলাস্কার 'ডিপার্টমেন্ট অফ ফিশ অ্যান্ড গেম অ্যান্ড ইউএসফরেস্ট সার্ভিস'-এর একটি প্রোজেক্টে ওই মা ভালুক ও তার সন্তানদের উপর নজরদারি চলছিল। অভিযুক্ত ওয়েন এবং তার বাবা অ্যান্ড্রু জানত না তারা সেই ভালুকের উপর আক্রমণ করতে চলেছে। এমনিতেও আলাস্কায় ভালুক হত্যা নিষিদ্ধ।
বছর খানেক আগের এই ভয়ঙ্কর হত্যার ভিডিও-টি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরে নিন্দায় ফেটে পড়েছেন নেটিজেনরা।
"আলাস্কার অরণ্য-আইন লঙ্ঘন করেছে ওই দুই ব্যক্তি।"-- বলে হিউমেন সোসাইটি অফ আলাস্কা।
ভিডিও-য় দেখা গেছে, গাছের নীচের বরফের গুহার ভিতরে গুলি চালাল ওয়েন। তার পরে রক্তাক্ত ভালুকটিকে গুহা থেকে টেনে বার করে, পরস্পরের সঙ্গে হাই-ফাইভ করে হাত মেলাল বাবা-ছেলে। এর পরে ওয়েন মৃত ভালুকের সঙ্গে পোজ় দিয়ে ছবিও তোলে।
এর পরে দু'টো ছানা ভালুককেও খুন করে ওই দুই অভিযুক্ত। গুহা থেকে টেনে বার করে তাদেরও। শুধু তাই নয়। ভিডিওয় ধরা পড়েছে, দু'দিন পরে ওই দুই ব্যক্তি ফের যায় ঘটনাস্থলে। ছানা দু'টোর দেহ একটি প্লাস্টিকের প্যাকেটে ঢোকায় তারা। মৃত মা ভালুকটের গলা থেকে জিপিএস রেডিও কলারটি খুলে নেয়।
পরে অবশ্য গ্রেফতার করা হয়েছে বাবা-ছেলেকে। যদিও জেরায় প্রথমে সবটাই অস্বীকার করে তারা। পরে ওয়েন বলে, ভালুক মারলেও কোনও ছানা ছিল না সেখানে। যদিও উল্টো দিকে ভিডিও প্রমাণ থাকায় সেই অস্বীকার ধোপে টেকেনি।
অ্যান্ড্রুর তিন মাসের জেল হয়। তার রাইফেল, বন্দুক, আই ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ফাইন করা হয়েছে ন'হাজার মার্কিন ডলার। তার শিকারের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দশ বছরের জন্য। ওয়েনের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে দু'বছরের জন্য।
কিন্তু তারা ঠিক কী কারণে ভালুকগুলিকে খুন করল, তা এখনও জানা যায়নি বলেই জানিয়েছে পুলিশ। জানিয়েছে, এর আগে যে তারা চোরাশিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিল, এরকম কোনও ইতিহাস পাওয়া যায়নি। পাওয়া যায়নি পশুপাখির ওপরে তাদের নিষ্ঠুর আচরণের কোনও ইতিহাসও।