দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদ্রীনাথ মন্দিরে ইদের নামাজ পড়া হচ্ছে, সম্প্রতি এমনই একটি ভিডিও সামনে এনেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল। ভিডিওটি কবে কে তুলেছেন, তা বোঝা যায়নি। কিন্তু হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির দাবি, এ কাজ পরিকল্পিত ভাবে করা হয়েছে হিন্দু ধর্মস্থানকে কলঙ্কিত করতে। তদন্তের দাবিতে সরব হয় তারা। প্রাথমিক তদন্তের পরে পুলিশ জানিয়েছে, এমন কোনও ঘটনার প্রমাণ তাদের কাছে এখনও নেই।
পুলিশ সূত্রের খবর, বুধবার অর্থাৎ ইদের দিন থেকে ভাইরাল হতে শুরু করে একটি ভিডিও। বলা হয়, আশ্রম প্রাঙ্গণেই ইদের নামাজ আদায় করছেন মুসলিমরা। বিষয়টি আদৌ সত্যি কিনা, কী হয়েছিল, কবেই বা হয়েছিল, সবটাই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
জানা গেছে, উত্তরাখণ্ডের চামোলিতে বদ্রীনাথ মন্দিরের কাছে, স্থানীয় এক কন্ট্র্যাক্টর হরিন্দর সিংয়ের অধীনে একটি প্রকল্পে কাজ করছেন ১৫ জন মুসলিম শ্রমিক। তাঁদের দিকেই অভিযোগের তির হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলির। কিন্তু তদন্তে জানা গেছে, তাঁরা ইদের দিন মন্দির থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে একটি পার্কিং লটে নামাজ পড়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই শ্রমিকরা নির্মাণ কাজের এলাকাতেই থাকছিলেন। তবে কখনওই তাঁরা জনসমক্ষে কোনও নামাজ পড়েননি। ইদের দিনেও তাঁরা কোনও ইমামকে ডেকে কোথাও গিয়ে নামাজ পড়েছিলেন, এমন প্রমাণ মেলেনি। যদিও তা সত্ত্বেও ওই শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ও কনট্র্যাকটরের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। কারণ স্থানীয় পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের অভিযোগ, মহামারী আইন লঙ্ঘন করে জমায়েত হয়েছিলেন তাঁরা।
সে প্রসঙ্গ পৃথক। পুলিশ জানিয়েছে, মন্দির প্রাঙ্গণে নামাজ পড়ার দাবি সঠিক নয়। সম্ভবত ইচ্ছেকৃত ভাবেই নামাজের ভিডিওটি ভাইরাল করা হয় বলেও মনে করছে পুলিশ। তবে সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসবের মধ্যে, স্থানীয় মানুষদের ভুয়ো খবর না ছড়ানোর আবেদন করেন চামোলি জেলার পুলিশ সুপার যশবন্ত সিং চৌহান।
তিনি বলেন, 'সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পোস্টটি দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে যে ইদের দিন বহু মুসলিম ধর্মাবলম্বী বদ্রীনাথ মন্দিরে এসে সেখানে নামাজ পড়েছেন। ভিডিওটি নজরে আসতেই আমরা তদন্তে নামি। তবে প্রাথমিক ভাবে কোনও প্রমাণ মেলেনি।'