দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাবারদাবার ও ত্রাণসামগ্রী নিয়ে নিয়ে উত্তর দিল্লির একটি বস্তিতে নিজে গিয়ে পৌঁছলেন আম আদমি পার্টির নেতা দিলীপ পান্ডে। বিলিও করলেন সে সব। জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এক পরিযায়ী শ্রমিক মা ও তাঁর সন্তানের অভুক্ত অবস্থার ছবি তাঁকে এতটাই ধাক্কা দেয়, যে তিনি আর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। নিজে গিয়ে পৌঁছন ঘটনাস্থলে।
ওই আপ নেতা বলেন, "আমি প্রথমে প্রশাসনিক স্তরে যোগাযোগ করি। তার পরে নানা সামগ্রী জোগাড় করে, রান্না করা খাবার নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছয়। বাচ্চা ও তার মায়ের জন্য সব ব্যবস্থা করা হয়।"
২২ বছরের ওই তরুণী মায়ের নাম ম্যাহেক। মাত্র আট দিন আগে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। দু'দিন অন্তর একদিন খাওয়া জুটেছে তাঁর। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, "খুব বেশি খিদে পেলে জল খাই।" এই ঘটনার কথাই সংবাদমাধ্যমে চোখে পড়ে দিলাপ পান্ডের। তার পরেই সেখানে পৌঁছন তিনি।
স্থানীয় সূত্রের খবর, ম্যাহেক ও তাঁর স্বামী গোপাল উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। সেখান থেকেই পেটের দায়ে এসেছেন দিল্লি। শ্রমিকের কাজ করছেন দু'জনেই। কিন্তু সপ্তাহ তিনেক আগে আচমকা লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় আরও কয়েক হাজার অভিবাসী শ্রমিকের মতোই কাজ চলে গেছে তাঁদেরও। শুরু হয়েছে অনাহার। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে নিজের রাজ্যে ফিরতেও পারেননি গোপাল। কোনও রকমে থেকে যান বস্তিতে। নির্দিষ্ট সময়ে কন্যাসন্তানের জন্মও দেন ম্যাহেক। কিন্তু না আছে দুধ, না আছে খাবার। টাকাও নেই হাতে, কাজও হারিয়েছে।
ম্যাহেক এখন একটাই কথা বলছেন, "দিল্লিতে আসাটাই আমাদের সবচেয়ে বড় ভুল হল।"
লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পরে দিল্লি থেকে কাতারে কাতারে শ্রমিকদের ভিন্ রাজ্যে ফিরতে চাওয়ার ভয়াবহ ছবি সারা দেশ দেখেছে। সমালোচনার মুখেও পড়েছেন শ্রমিকরা। কিন্তু পেটের দায়ে, কাজ হারিয়ে, থাকার জায়গা থেকে বিচ্যুত হওয়া এই মানুষগুলি কোথায় যাবেন, কী করবেন তা কেউ বলে দেয়নি। যদিও সরকার পরে বারবারই ঘোষণা করে, যে শ্রমিক যে রাজ্যে রয়েছেন তিনি যেন সেখানেই থেকে যান দায়িত্ব সেই রাজ্যের সরকারই নেবে, তবু কার্যক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।
ম্যাহেক যেমন জানালেন, কেন্দ্র সরকার অতিরিক্ত রেশনের কথা ঘোষণা করলেও, অন্য রাজ্য থেকে আসায় তাঁদের সেই রেশন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই।
দিলীপ পান্ডে এলাকার অবস্থা সচক্ষে দেখার পরে বলেন, "আমরা আশা করছি শিক্ষিত মানুষজন এই পরিস্থিতিতে আরও সক্রিয় হবেন, এগিয়ে আসবেন। প্রত্যেকে যেন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন, বা অন্তত প্রশাসনকে জানান এমন সমস্যার কথা।"