দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসবের নামে যে অশ্লীলতা হয়েছে তার তীব্র নিন্দা করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। শুক্রবার তিনি বলেন, "এই ঘটনায় লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। কী ভাষা! এর নিন্দা করার ভাষা নেই।" যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের যুক্ত থাকার যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে একটি কথাও বলেননি শিক্ষামন্ত্রী।
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থবাবু বলেন, "গত কাল আমি পুরুলিয়ায় ছিলাম। তাই বিষয়টা ভাল করে জানতাম না।" তবে শোনার পরেই রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং প্রশাসনের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর কথায়, "আমি উপাচার্য এবং প্রশাসনকে বলেছি, যা ভাল মনে হয় করুন।"
বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে হুহু করে ছড়িয়ে পড়েছিল রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের বসন্ত উৎসবের ছবি। তরুণীদের পিঠ আর তরুণদের বুকে নানা রঙের আবির দিয়ে লেখা অশ্লীল শব্দ। আর তা দেখিয়ে, পোজ দিয়ে দাঁড়িয়ে-বসে চলে দেদার ফটোশ্যুট। কিন্তু চব্বিশ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সামনে আসে ওই তরুণ-তরুণীদের পরিচয়। জানা যায় তারা কেউ রবীন্দ্রভারতীর পড়ুয়াই নয়। শুক্রবার তারা ক্ষমা চাইতে হাজির হয় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। মুখ ঢেকে বসে থাকতে দেখা যায় ওই তরুণ-তরুণীদের। এর পরে অভিযোগ উঠছে, গোটা ঘটনায় দায় এড়াতে চাইছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পরিচালিত ছাত্র সংসদ।
শুধু তো ছবি নয়। একাধিক ভিডিওতে শোনা যায় রোদ্দুর রায়ের অশ্লীল শব্দে ঠাসা বিকৃত করা রবীন্দ্র সঙ্গীত বাজছে জেবিএল বক্সে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠছে, বহিরাগত তত্ব দিয়ে না হয় আবিরের 'কালো রঙ' মোছা গেল, কিন্তু গানের শব্দ ঢাকা যাবে কী দিয়ে?
পার্থবাবু এদিন বলেন, "এটা কী হচ্ছে বলুন তো! কী চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।" তিনি আরও বলেন, "ওই তরুণ-তরুণীদের অভিভাবকরা দেখলে তাঁরাও চোখের জল ফেলবেন। কী ভাষা! এই ঘটনা লজ্জায় আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে।" শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, "আমি রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বলেছি, সামনের বার থেকে এই ধরনের ঘটনা যাতে কোনও ভাবেই না ঘটে।"