দ্য ওয়াল ব্যুরো : সি বি আই-তে গোলমাল চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই । সেই গোলমালের জেরে সরতে হয়েছে সংস্থার ডিরেক্টর অলোক বর্মা এবং স্পেশ্যাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে। সি বি আইয়ের গোলযোগ নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যে সংস্থাকে, সেই সেন্ট্রাল ভিজিল্যান্স কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েই এবার প্রশ্ন তুললেন অলোক বর্মা। তাঁর দাবি, ভিজিল্যান্স কমিশনার কে ভি চৌধুরী তলে তলে আস্থানাকেই সাহায্য করে চলেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশও মানেননি। বর্মার দাবি, সিবিআইতে সমস্যার জন্য দায়ী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অফিসই।
সম্প্রতি বর্মা কোর্টে আস্থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তিনি হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ীর থেকে ঘুষ নিয়েছিলেন। আস্থানাও আদালতে একই অভিযোগ করেছেন বর্মার বিরুদ্ধে । সুপ্রিম কোর্ট ভিজিল্যান্স কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে, পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেইমতো ভিজিল্যান্স থেকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে বর্মাকে।
এই প্রশ্নগুলি নিয়েই আপত্তি আছে বর্মার । তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট খুব নির্দিষ্ট করে বলেছিল, মন্ত্রিসভার সচিব গত ২৪ অগাস্ট তাঁর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছিলেন, তার ভিত্তিতে প্রশ্ন করতে হবে। কিন্তু সেই অভিযোগের ওপরে তাঁকে একটিও প্রশ্ন করা হয়নি। বরং রাকেশ আস্থানা ১৮ অক্টোবর তাঁর বিরুদ্ধে ভিজিল্যান্স কমিশনে যে অভিযোগ করেছিলেন, তারই ভিত্তিতে প্রশ্ন করা হয়েছে।
বর্মার দাবি, সিবিআই আস্থানার বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করার পরে তিনি ভিজিল্যান্সকে ওই চিঠিটি লেখেন। তার আগেই আস্থানার প্রধান সহযোগী মনোজ প্রসাদকে গ্রেফতার করেছিল সিবিআই । সতীশ সানা নামে যে ব্যবসায়ী আস্থানাকে ৩ কোটি টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছিল। সিবিআইয়ের হাতে আস্থানার বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।
এর পরেই ভিজিল্যান্স কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্মা । তাঁর দাবি, পিএমও-র এক শীর্ষস্থানীয় অফিসার কে ভি চৌধুরীকে নির্দেশ দিয়েছেন, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করতে হবে। তাঁর কথায়, আমি চারটি প্রদেশে ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পুলিশকে নেতৃত্ব দিয়েছি। দুটি গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব সামলেছি। ৩৯ বছরের কেরিয়ারে কেউ আমার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। কিন্তু ভিজিল্যান্স কমিশনারের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তিনি প্রমাণ করতে চান, আমার সততা ও নিরপেক্ষতা বলে কিছু নেই । তিনি আমাকে যেভাবে প্রশ্ন করেছেন, তাতে মনে হয়, আমি ইতিমধ্যেই অপরাধী বলে প্রতিপন্ন হয়েছি।
বর্মার অভিযোগ, একইসঙ্গে ভিজিল্যান্স কমিশনার চেষ্টা করছেন যাতে আস্থানাকে নির্দোষ প্রমাণ করা যায় । অতীতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আস্থানার বিরুদ্ধে হাফ ডজন দুর্নীতির মামলা আছে। আমি আগে বেশ কয়েকবার ভিজিল্যান্স কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালেও কেউ কান দেয়নি। এমনকী ২০১৭ সালে যখন আস্থানাকে সি বি আইয়ের স্পেশ্যাল ডিরেক্টর নিয়োগ করা হচ্ছিল, তখনও আমি আপত্তি করেছিলাম। কিন্তু কেউ তা শোনেনি।