
শেষ আপডেট: 24 February 2023 05:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সূর্যের করোনা অশান্ত। গনগনে আগুন বেরোচ্ছে। জন্ম হচ্ছে ভয়ঙ্কর সৌরঝড়ের (Solar Storm)। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, সূর্যের থেকে ছিটকে আসা সৌরকণা ও সৌরবায়ু প্রবল বেগে ধেয়ে আসতে পারে পৃথিবীতেও। সূর্যের প্রচণ্ড বিস্ফোরণের ধাক্কা লেগেছে পৃথিবীর প্রতিবেশী শুক্র গ্রহেও। এই নিয়ে এক সপ্তাহে দু'বার সৌরঝড়ের প্রভাবে টালমাটাল শুক্র। ঝলসে যাচ্ছে গ্রহের পৃষ্ঠদেশ।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণ, গত কয়েক দিনে সূর্যের মধ্যে বিভিন্ন গ্যাসের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অনেক বেড়ে গিয়েছে (Solar Storm)। ধারাবাহিকভাবে বিস্ফোরণ হয়ে চলেছে। নাসার স্টিরিও স্পেসক্রাফ্ট দেখিয়েছে, গত ৫ সেপ্টেম্বর তুমুল ঝড় ওঠে সূর্যে। একের পর এক বিস্ফোরণ শুরু হয়। আগুনে রশ্মি ছিটকে বেরতে শুরু করে। সূর্য থেকে ছিটকে আসা আগুনে গোলার ধাক্কা লাগে শুক্র গ্রহে। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর আশপাশেও। সাধারণ সৌররশ্মির তেজ যতটা হয়, সূর্য থেকে ছিটকে আসা কণা বা সোলার পার্টিকলদের শক্তি ও বেগ দুটোই হয় বহুগুণ বেশি। এই সোলার পার্টিকলদের স্রোত (Solar Storm) কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তাই দেখিয়েছে নাসা।

সূর্যের বায়ুমণ্ডলের সবচেয়ে বাইরের স্তর করোনা, সেখান থেকেই প্রচণ্ড গতিতে সৌরকণারা ছিটকে বাইরে বেরিয়ে আসে। একে বলে 'করোনাল মাস ইজেকশন'। ১০০ কোটি বা তারও অনেক বেশি পরমাণু বোমা এক সঙ্গে ফাটলে যে পরিমাণ শক্তির জন্ম হয়, এরা ততটাই শক্তিশালী। এরা প্রলয়ঙ্কর কাণ্ড ঘটাতে পারে (Solar Storm)। নাসা দেখিয়েছে, প্রতি ঘণ্টায় ১০ লক্ষ মাইল গতিতে এই সৌরকণারা ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে (Solar Storm)। নাসার সোলার ডায়নামিক্স অবজারভেটরিতে ধরা পড়েছে এই ছবি।

আমাদের পৃথিবীর যেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে, সূর্যের তেমন অ্যাটমস্ফিয়ার আছে। সূর্যের পিঠ (সারফেস) ও তার উপরের স্তর করোনার মধ্যে তাপমাত্রার ফারাক অনেক। সারফেসের গড় তাপমাত্রা ৫৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কোথাও ৫৮০০ ডিগ্রি আবার কোথাও ৫২০০ ডিগ্রি সেলসিয়ারের কাছাকাছি। করোনার তাপমাত্রা সেখানে প্রায় ২ লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি। কখনও তারও বেশি। এই করোনা উচ্চতাপমাত্রার প্লাজমা আবরণে ঢাকা। এখান থেকেই বেরিয়ে আসে তড়িদাহত কণার স্রোত। শুধু মহাকাশই নয়, সেই কণার স্রোত প্রভাবিত করে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলকেও।
এই করোনা স্তর থেকে সৌরঝড়ের (Solar Storm) জন্ম হয়। সূর্য থেকে বেরিয়ে আসা শক্তিশালী কণা ওর চৌম্বক ক্ষেত্রগুলিকে নিয়ে সৌরবায়ু বেরিয়ে আসে সূর্যের থেকে। আর তা ছড়িয়ে পড়ে আমাদের সৌরমণ্ডলের একেবারে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত। ধেয়ে আসে সৌরমণ্ডলের গ্রহহুলির দিকেও। সাধারণত, সৌরবায়ুর গতিবেগ হতে পারে সেকেন্ডে ৫০০ কিলোমিটার। তবে নাসা জানাচ্ছে, তার গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৮ লক্ষ মাইলও। নাসা জানাচ্ছে, সৌরঝড়ের প্রকোপে সৌরমণ্ডলের গ্রহগুলিও বিপদে পড়তে পারে।

পৃথিবীর কী ক্ষতি হতে পারে?
সৌরঝড় পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্র ও আয়নগুলো পৃথিবীর টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস নেটওয়ার্ককে তছনছ করে দিতে পারে। সৌরঝড় (সোলার স্টর্ম) যার দ্বারা স্যাটেলাইটগুলো আক্রান্ত হয় ও টেলি যোগাযোগে বড় ব্যাঘাত ঘটায়। পাশাপাশি, বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ানোর জন্যও দায়ী এই সৌরবায়ু, সৌরঝড় এবং সৌর বিকিরণ। বিজ্ঞানীরা বলছেন যদি পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের আস্তরণ না থাকত তাহলে এই শক্তিশালী সৌরঝড়ের প্রভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত রেডিও ও টেলি যোগাযোগ, সম্পর্ক ছিন্ন হত স্যাটেলাইটের সঙ্গে, অকেজো হয়ে যেত বিমানের সেন্সর, বদলে যেত আবহাওয়ার প্রকৃতি।
সৌরপদার্থবিজ্ঞানীরা বলেন, অসম্ভব শক্তিশালী সৌরকণারা যদি কোনওভাবে পৃথিবীর অনেক কাছাকাছি চলে আসে তাহলে পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে তাদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হবে। সৌরকণাদের সম্মিলিত শক্তি যদি বেশি হয়, তাহলে পৃথিবীর রেডিও বা টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থাকে তছনছ করে দিতে পারে। পৃথিবীর কাছাকাছিই রয়েছে চাঁদ। তাই এর প্রভাব পড়তে পারে চাঁদেও। আর চাঁদে যেহেতু চৌম্বকক্ষেত্রের বর্ম নেই তাই সরাসরি সৌরঝড় ধাক্কা দিতে পারে।
কয়লা পোড়া ছাইয়ে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির দূষণবিধি মানার সময় আরও পিছোল