
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 7 July 2024 11:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা থেকে জেলা, সবজির বাজারে যেন আগুন লেগেছে। কাঁচা লঙ্কা দেড়শো ছুঁয়েছে দিন দশ আগেই। কোথাও কোথাও তা ১৬০-১৭০ টাকা। ডবল সেঞ্চুরির মুখে বেগুন। ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিকোচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় এই সবজি। উচ্ছে ১২০ টাকা, টমেটো ৮০ টাকা। ঢ্যারশ, ঝিঙে-সহ অন্যান্য সবজির দামও তর তর করে চড়ছে। বেশিরভাগ মানুষ কমদামের জ্যোতি আলু খান। তার দাম তিরিশ ছুঁই ছুঁই লোকসভা ভোটের আগে থেকেই।
সব ধরনের শাকের দাম গড়ে দশ টাকা আঁটি বহুদিন। দিন কয়েক হল কিছু শাকের আঁটি পনেরো ছুঁয়েছে। আদা, রসুন অনেকদিন আগেই ডাবল সেঞ্চুরির ঘর পেরিয়েছে। লোকে বলছে খাবো কী! দোকানিদের বক্তব্য, আমাদের অবস্থা আরও করুণ। দিনের শেষে লাভের গুড় মেলে না। দামের কারণে লোকে কিনছে কম।
ক্রেতারা বলছেন, সবজির তুলনায় মাছের দামে এখনও খানিক স্বস্তি আছে। গত দিন পনেরো যাবত সবজির দাম একটু একটু করে বাড়ছিল। রথের দিন রবিবারের সকালে সেই দাম যেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে গেল। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টি না হলে সবজির দাম আরও ঊর্ধমুখী হবে।
বাংলায় সাধারণত ৮ জুন নাগাদ বর্ষা আসে। এক মাস হয়ে গেল, বৃষ্টি সামান্য হয়েছে বটে। কিন্তু তাকে বর্ষা বলা যাবে না। ফলে সবজির দাম বৃদ্ধির নেপথ্যে অনাবৃষ্টিকে দায়ী করছেন বিক্রেতাদের কেউ কেউ। তবে শুধুই অনাবৃষ্টি নাকি অনাবৃষ্টির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বাড়তি মুনাফার লোভে কৃত্রিম চাহিদাও তৈরি করা হচ্ছে, সেই প্রশ্নও উঠছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশ একান্ত আলাপচারিতায় বলছেন, এর পিছনে একটা গভীর চক্রও রয়েছে। যে সবজিটা হয়েছে সেটাও অনেকে বাজারে আনছেন না। আগে সংরক্ষণের এতটা ব্যবস্থা ছিল না। ফলে নষ্ঠ হওয়ার ভয়ে অনেকেই উৎপাদিত সবজির সবরা বাজারে এনে বিক্রি করে দিতেন। এখন অনেকেই সবজি হিমঘরে রেখে দেন। দাম বাড়লে বাজারে ছাড়া হয়।
প্রসঙ্গত, বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের টাস্কফোর্স রয়েছে। গত সপ্তাহে কলকাতা -সহ জেলার একাধিক বাজারে অভিযানেও নেমেছিলেন টাস্কফোর্সের কর্মীরা। সূত্রের খবর, সবজির বাজারের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে ফের আগামী সপ্তাহে অভিযানে নামতে পারে টাস্কফোর্স।
তবে একথাও ঠিক, পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে সবজি উৎপাদনের ঘাটতি আরও বাড়বে। সেক্ষেত্রে সবজি হয়ে উঠতে পারে আরও মহার্ঘ।