দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির অভিজাত বসন্ত বিহার এলাকায় বৃদ্ধ দম্পতি খুনের কিনারা করলো পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ডাকাতির জন্যই এই খুন। ধৃতরা নিজেদের অপরাধ স্বীকারও করেছে। তাদের আদালতে তোলা হবে।
গত রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ বসন্ত বিহারের একটি আবাসন থেকে উদ্ধার হয় এক বৃদ্ধ দম্পতি বিষ্ণু কুমার (৭৯) তাঁর স্ত্রী শশী মাথুরের (৭৫) গলার নলি কাটা দেহ। পাশেই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিলেন তাঁদের পরিচারিকা খুশবু নৌটিয়ালকে (২৪)। তাঁকেও একই ভাবে খুন করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। মৃতদেহ উদ্ধারের পরই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার দেবেন্দ্র আর্য জানান, ঘটনার তদন্তের জন্য বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
সহকারী কমিশনার (অপরাধ) রাজীব রঞ্জন জানিয়েছেন, ধৃত এক মহিলা ও তাঁর লিভ-ইন পার্টনার। অভিযুক্ত মহিলা ওই বৃদ্ধারাই এক বান্ধবীর মেয়ে। বসন্ত বিহারের ওই বাড়িতে নিত্য যাতায়াত ছিল তার। সেই সূত্রেই বাড়ির আটঘাট তার জানা ছিল। বৃদ্ধা শশী মাথুরও দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। সেই সুযোগেরই ফায়দা তোলে সে। প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র খুন ও ডাকাতির পরিকল্পনা করে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, শনিবার সন্ধে নাগাদ একটি বাইক এসে দাঁড়ায় বসন্ত বিহারের ওই বাড়ির সামনে। তার থেকে নামে এক মহিলা ও এক পুরুষ। দু'জনেই ঢুকে যায় বাড়ির ভিতরে। বাড়ি থেকে তাদের বার হতে দেখা গেছে শনিবার রাত আড়াইটে নাগাদ। ছেলেটির হাতে বড় ব্যাগ ছিল। মাথায় হেলমেট থাকার কারণে তার মুখ ভালো বোঝা যায়নি। মেয়েটির মাথা-মুখ ঢাকা ছিল ওড়নায়। পুলিশের সন্দেহ এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই তারা বৃদ্ধ দম্পতি ও তাঁদের পরিচারিকাকে খুন করন। তার পর টাকা-পয়সা নিয়ে বাইকে চেপে চম্পট দেয়।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও ইতিমধ্যেই ওই বাড়িতে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছেন। স্থানীয়রা বলেন, বিষ্ণু কুমার অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মী। ১৯৮২ সালে এক পথ দুর্ঘটনায় তাঁদের একমাত্র ছেলে মারা যান। ওই বৃদ্ধ দম্পতির একটি মেয়ে রয়েছে। তিনি স্বামীর সঙ্গে গ্রেটার কৈলাসে থাকেন। শনিবার সন্ধ্যাতেও বৃদ্ধ বাবা-মাকে দেখে গিয়েছেন তিনি। বৃদ্ধের ভাইপো বৈভব শ্রীবাস্তবের কথায়, "আমার জেঠিমা গত দেড় বছর ধরে অসুস্থ হয়ে শয্যাসায়ী। দু’সপ্তাহ আগেও তাঁদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের কোনও অসুবিধা হচ্ছে না বলে জানিয়েছিলেন। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।"