
শেষ আপডেট: 16 June 2022 09:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় সেনায় ‘অগ্নিপথ’ প্রকল্পের (Agnipath) বিরুদ্ধেও মুখ খুললেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi)। আজ একটু আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং-কে লেখা চিঠিতে পিলভিটের সাংসদ তথা মানেকা গান্ধীর পুত্র বরুণ লিখেছেন, এই প্রকল্প যুব সমাজের মধ্যে হতাশার জন্ম দেবে। চার বছর সেনার কাজ করার পর যাদের বসিয়ে দেওয়া হবে, তাদের বাকি জীবন কীভাবে কাটবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তার যথেষ্ট কারণ আছে। কারণ, এখন ১৫ বছর সেনায় কাজ করার পর অবসর নেওয়া সেনানিদেরও ভাল চাকরি জুটছে না। সেখানে চার বছর চাকরি করার পর ৭৫ শতাংশকে সেনা থেকে অবসরে পাঠানো হলে হতাশাই বাড়বে। যুব সমাজের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া পেয়েই তিনি ‘অগ্নিপথ’ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করার পরামর্শ দিচ্ছেন, রাজনাথকে লিখেছেন বরুণ।

সেনায় চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগের অগ্নিপথ নামে নতুন প্রকল্প চালু করার কথা ঘোষণা করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। মঙ্গলবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং সেনা কর্তাদের পাশে নিয়ে এই প্রকল্প ঘোষণা করেন।
ওই প্রকল্পে সেনায় নিয়োগ হবে চার বছরের চুক্তিতে। চার বছরের মাথায় ২৫ শতাংকে পাকা চাকরির জন্য রেখে দিয়ে বাকিদের বসিয়ে দেওয়া হবে। তাঁরা পেনশন পাবেন না। চার বছরের মাথায় বসিয়ে দেওয়ার সময় এককালীন অর্থ দেওয়া হবে।
সরকারের বক্তব্য, এই অবসরপ্রাপ্ত সেনারা আধা সেনা, পুলিশ, বেসরকারি নিরাপত্তা এজেন্সি এবং যোগ্যতা অনুযায়ী অন্যান্য জায়গায় কাজের সুযোগ পেয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে উত্তরপ্রদেশ ও অসম সরকার ঘোষণা করেছে, তারা পুলিশে এই অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের অগ্রাধিকার দেবে।

কিন্তু সেনায় নিয়োগের ওই প্রকল্পের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বহু অবসরপ্রাপ্ত সেনা অফিসার। দেশের নানা প্রান্তে বিক্ষোভও শুরু হয়েছে। আজও বিহারের নানা জায়গায় বিক্ষোভ চলছে। রেল, রাস্তা অবরোধ করেছে আন্দোলনকারীরা।
এই পরিস্থিতিতে অতীতে নানা ইস্যুর মতো এবারও বরুণই শাসক দলের প্রথম সাংসদ যিনি সরকারকে শোধরানোর পরামর্শ দিলেন। এর আগে বিতর্কিত তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে মুখ খোলেন তিনি এবং চিঠি দেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। আন্দোলনকারী কৃষকদের উপর পুলিশি নির্যাতনেরও সমালোচনা করেন মেনকা পুত্র।
বিজেপি নেতৃত্ব প্রকাশ্যে বরুণকে পাল্টা পরামর্শ দিয়ে সংযত করার পথে হাঁটেনি এখনও। তবে জেপি নাড্ডা দলের সভাপতি হওয়ার পর বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে মা ও ছেলেকে বাদ দিয়ে দিয়েছে।