দ্য ওয়াল ব্যুরো : চলতি মাসেই বিজেপির সাংসদ বরুণ গান্ধীকে (Barun Gandhi) বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তার আগে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর-খেরিতে মৃত কৃষকদের নিয়ে টুইট করেছিলেন বরুণ। জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ পড়ার পরেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, চুপ করতে রাজি নন। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর ভাষণের এক ভিডিও টুইট করেন। তাতে বাজপেয়ী সরকারকে সতর্ক করে বলেছিলেন, কৃষকদের ভয় দেখালে ফল ভাল হবে না। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বাজপেয়ীর বয়স যথেষ্ট কম। কবে ওই ভিডিওচিত্র তোলা হয়েছিল স্পষ্ট নয়। একটি সূত্রে খবর, ভিডিওটি আটের দশকের গোড়ার দিককার। তৎকালীন ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে বাজপেয়ী ঐ সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন।
বাজপেয়ী বলেছিলেন, "আমি সরকারকে সাবধান করে বলতে চাই, কৃষকদের ভয় দেখাবেন না। কৃষকরা ভয় পাবেন না। আমরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কৃষকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করতে চাই না।" পরে বাজপেয়ী বলেন, "আমরা কৃষকদের ন্যায্য দাবি সমর্থন করি। সরকার যদি আমাদের ভয় দেখাতে চায়, আইনের অপব্যবহার করে, আমরাও কৃষকদের আন্দোলনে যোগ দেব।"
টুইটের শেষে বরুণ লিখেছেন, এক উদারহৃদয় নেতা যা বলেছেন, তা খুবই যুক্তিযুক্ত।
বিজেপির মুখপাত্র হরিশচন্দ্র শ্রীবাস্তব বলেছিলেন, লখিমপুরের হিংসার পিছনে আছে খলিস্তানিরা। বরুণ গান্ধী কিন্তু তার সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য পেশ করেন। তাঁর মতে, কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ‘অপরাধমূলক অবহেলা’-র জন্যই হিংসা ছড়িয়ে পড়েছিল। বরুণের বক্তব্য, পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজনীতিকদের অপেক্ষা করা উচিত। কারণ “মাঝে মাঝে রাজনীতির জন্য পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে।”
তিনবারের সাংসদ বরুণ বলেন, “একটি সম্প্রদায়ের মানুষ কয়েক প্রজন্ম ধরে দেশের স্বার্থে প্রাণ দিয়ে এসেছেন। আমরা যদি তাঁদের সম্পর্কে ঘৃণাসূচক মন্তব্য করি, তাহলে, ঈশ্বর না করুন, শান্তিপূর্ণ মানুষের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।” পরে তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমি যে খবর পেয়েছি, তাতে মনে হয় কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অপরাধ করেছিল। তাদের গ্রেফতার করা উচিত। আমি নিশ্চিত, তারা গ্রেফতার হবে।”
বরুণের মতে, “অপরাধীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ আনা উচিত। রবিবারের ঘটনার পিছনে কোনও প্রশাসনিক ব্যর্থতা নেই। পুলিশ কৃষকদের ওপরে গুলি চালায়নি।”
অভিযোগ, ৩ অক্টোবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রের ছেলে আশিস মিশ্রের গাড়ি কৃষকদের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সোমবার উত্তরপ্রদেশ পুলিশ আশ্বাস দেয়, মৃতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে। মন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, তাঁর ছেলে ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাঁর পাল্টা অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা লাঠি ও তলোয়ার নিয়ে বিজেপি কর্মীদের আক্রমণ করেছিল। তাদের হামলায় গাড়ি উল্টে গেলে চারজন মারা যান। কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানিয়েছে, মৃতরা হলেন লাভপ্রীত সিং (২৪), নাচাত্তার সিং (৬০), দলজিৎ সিং (৩২) এবং গুরবিন্দর সিং (২০)।