দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশার কথা শোনালেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ।
করোনার টিকা কবে আসবে সে নিয়ে নানা মতামত সামনে আসছে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজেশ ভূষণ জানিয়েছেন, আগামী বছরের শুরুর দিক থেকেই টিকার বিতরণ শুরু হতে পারে। তার জন্য রাজ্যগুলির সঙ্গে আলোচনা করে গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে।
স্বাস্থ্যসচিব বলেছেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে টিকার সংরক্ষণ ও বিতরণের কর্মসূচী নেওয়া হবে। সবচেয়ে আগে দরকার টিকার সংরক্ষণ। দেশের টিকা হোক বা বিদেশ থেকে আনানো কোভিড ভ্যাকসিনের ভায়াল, সবচেয়ে আগে কোল্ড স্টোরেজে ঢোকাতে হবে। এয়ার ট্রান্সপোর্টের পরে টিকার সংরক্ষণ না হলে ডোজ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এরপরে ঠিক করা হবে কী পরিমাণে টিকার ডোজ রাজ্যগুলিতে পাঠানো হবে। তার জন্য গাইডলাইন তৈরি হচ্ছে। অক্টোবরের পর থেকেই টিকার বিতরণের যাবতীয় প্রকল্প ঠিক করা হবে।
সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকার ট্রায়াল চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভারত বায়োটেকের টিকাও তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু করে দিয়েছে। টিকার গুমান বাড়ানোর জন্য বিদেশ থেকে নতুন অ্যাডজুভ্যান্ট আনানো হচ্ছে। জাইদাস ক্যাডিলার টিকার ট্রায়ালও চলছে জোরকদমে। তাই সব মিলিয়ে একুশ সালের গোড়ার দিকেই টিকা চলে আসার সম্ভাবনা আরও জোরালো হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রকের যুগ্মসচিব ডক্টর মনোহর আগনানি বলেছেন, টিকার কোল্ড স্টোরেজের জন্য সব রাজ্যগুলিকে চিঠি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। টিকার ডোজ চলে এলে তা বিতরণের জন্য কর্মসূচীও ঠিক করতে হবে। ল্যাবরেটরি থেকে টিকা কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে দেশের বিভিন্ন জায়গায়, টিকার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য দ্রুত পরিকল্পনা ঠিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই মর্মে আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে রাজ্যগুলিকে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডক্টর হর্ষবর্ধন আগেই বলেছিলেন, টিকা চলে এলে সবচেয়ে আগে তিনিই ডোজ নেবেন। সুরক্ষার ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত হয়ে তবেই টিকার বিতরণ শুরু হবে। বিদেশ থেকে যে টিকার ভায়াল আসবে তারও পরীক্ষানিরীক্ষা করেই দেশের বাজারে ছাড়া হবে। তবে এর মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে টিকা সকলে পাবেন কিনা। কারণ এত বড় জনসংখ্যার দেশে প্রত্যেককে টিকার ডোজ দিতে হলে যে পরিমাণ উৎপাদনের দরকার তা আগামী বছরের মধ্যেই শেষ হবে কিনা সে নিয়েও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস)-এর ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, ভারতে ক্লিনিকাল ট্রায়াল যেভাবে এগোচ্ছে তাতে একুশ সালের গোড়ার দিকেই কোভিড ভ্যাকসিন চলে আসার কথা। তবে দেশের সকলের জন্য পর্যাপ্ত টিকার ডোজ তৈরি হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত তথ্য এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সরকারি প্রচেষ্টায় দেশের অধিকাংশকেই টিকা দেওয়া হবে বলেও আশাবাদী তিনি।
টিকার ডোজ বিতরণ নিয়ে সম্প্রতি ভেলোরের ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজের মাইক্রোবায়োলজিস্ট ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) গ্লোবাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য গগনদীপ কাং বলেছেন, গুরুত্ব বুঝে টিকার বিতরণ করা দরকার। কোনওরকম স্বার্থ বা উদ্দেশ্য ভেবে নয়। চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রবীণ ব্যক্তিদের যেমন টিকার দরকার সবচেয়ে বেশি। তেমনি কোমর্বিডিটি রয়েছে যাঁদের শরীরে তাঁদেরও আগে টিকা দেওয়া উচিত। প্রবীণরা বলে শুধু নয়, কমবয়সীদেরও টিকার দরকার রয়েছে। কে কেমন পেশার সঙ্গে যুক্ত, লোকজনের সঙ্গে মেলামেশার ধরন ইত্যাদি গুরুত্ব বুঝেই টিকার সঠিক বিতরণ করতে হবে।