দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিশিল্ড টিকায় কোনও রোগ হতেই পারে না। পষ্টিপষ্টি বলল বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা সেরাম ইনস্টিটিউট। বিবৃতি দিয়ে সেরাম জানাল, বহুবার পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে তবেই মানুষের শরীরে টিকার ট্রায়াল শুরু হয়েছে। নিশ্চিত না হয়ে তো কখনও টিকা দেওয়া হয় না। ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটি সব খতিয়ে দেখার পরে তবেই টিকার ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়েছে স্বেচ্ছাসেবকদের। এখনও অবধি কোনও অসুখবিসুখের খবর আসেনি। চেন্নাইয়ের স্বেচ্ছাসেবকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
সেরামের টিকা নেওয়ার পরেই জটিল স্নায়ুর রোগ হয়েছে বলে দাবি করেছেন চেন্নাইয়ের বছর চল্লিশের এক ব্যক্তি। তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাঁকে আইসিইউতে ভর্তি করতে হয়েছে, এমনটাই দাবি স্বেচ্ছাসেবকের আইনজীবীর। সেরামের বিরুদ্ধে পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের মামলাও করেছেন তিনি। এই অভিযোগের পাল্টা সেরামও ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকে দিয়েছে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, মিথ্যা অভিযোগ করে সংস্থার নাম খারাপের চেষ্টা করা হচ্ছে।
https://twitter.com/SerumInstIndia/status/1333660627257024512
আজ ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্ট করে সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, “কোভিশিল্ড টিকা মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও নিরাপদ। চেন্নাইয়ের স্বেচ্ছাসেবকরে শারীরিক অসুস্থতার জন্য আমরা দুঃখিত। কিন্তু টিকার ডোজে এমন ওই স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়নি। ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর, এথিক্স কমিটির সদস্যরা আলাদা করে টিকার ডোজ পরীক্ষা করে দেখেছেন। তাঁরাই বলেছেন, ওই রোগের সঙ্গে টিকার ট্রায়ালের কোনও সম্পর্ক নেই।“
সেরামের টিকার ডোজে স্বেচ্ছাসেবকের শরীরে অ্যাকিউট নিউরো এনসেফ্যালোপ্যাথি নামে জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তাঁর আইনজীবী। যদি কোনওভাবে টক্সিক পদার্থ রক্তে মিশে যায় তাহলেই এই রোগ দেখা দেয়। সাধারণত, সায়ানোটক্সিন বা ওই জাতীয় টক্সিক পদার্থ শরীরে ঢুকলে এমন ক্রনিক স্নায়ুর রোগ হতে পারে। সেরামের বক্তব্য, এই ধরনের জটিল স্নায়ুর রোগ কোভিশিল্ড টিকার ডোজে হয়নি। কারণ টিকার ডোজে এমন কোনও রাসায়নিক বা টক্সিক পদার্থ নেই যাতে এই রোগ হতে পারে। তাহলে আরও অনেকের মধ্যেই এমন জটিল স্নায়ুর রোগ দেখা যেত। এতএব সংস্থার দাবি, ওই ব্যক্তির আইনজীবী মিথ্যা অভিযোগ করেছেন। হয়তো স্বেচ্ছাসেবকের কোনও মানসিক সমস্যা ছিল, তবে টিকার ডোজে এমন রোগ হয়নি বলেই দাবি। সংস্থার তরফে বলা হয়েছে, ভুয়ো খবর ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এমন মিথ্যা অভিযোগ আনলে তার প্রভাব পড়বে টিকার ট্রায়ালে। ভ্যাকসিন বন্টনেও দেরি হবে।