দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃতীয় পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শেষ। এবার মানুষের শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ঠেকাবার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে জার্মানি। দেশের অন্যতম বড় বায়োটেকনোলজি কোম্পানি বায়োএনটেক
(BioNTech)-এ ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ফেব্রুয়ারি থেকেই। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, পশুদের শরীরে ট্রায়াল সফল। এবার মানব শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে এই ভ্যাকসিন।
জার্মানির ড্রাগ ও ভ্যাকসিন রেগুলেটরি অথরিটির তরফে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে ২০০ জন সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক মানুষের উপরে এই ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য যাঁদেরকে বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এই পরীক্ষা সফল হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী-সহ সংক্রমণের ঝুঁকি যাঁদের সবচেয়ে বেশি তেমন মানুষজনের উপরে ট্রায়াল শুরু হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালও যদি সফল হয়, তাহলেই ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমতি সাপেক্ষে তৃতীয় পর্যায়ে সংক্রামিত রোগীদের উপরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানো হবে।
অধ্যাপক উগার সাহিন
ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজারের সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই ভ্যাকসিন তৈরির কাজ চলছে বায়োএনটেকে। এই গবেষণার নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক উগার সাহিন। তিনি বলেছেন
BNT162 আসলে ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট। ল্যাবরেটরিতে এর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সফল। তাই হিউম্যান ট্রায়াল শুরু করা হবে খুব তাড়াতাড়ি।
এই ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট হল ভ্যাকসিন তৈরির মূল ভিত। যেখানে হয় গোটা ভাইরাসকে (নিষ্ক্রিয়) শরীরে ঢুকিয়ে অ্যান্ডিবডি তৈরির চেষ্টা চলে, নাহলে ভাইরাসের সারফেস প্রোটিনগুলোকে বিশেষ উপায় বিশুদ্ধ করে মানুষের শরীরে ইনজেক্ট করা হয়। এই ভাইরাল প্রোটিনগুলো ‘মেমরি বি সেল’ তৈরি করে, যার কাজ শরীরকে ভালভাবে ভাইরাসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে রাখা। এই মেমরি বি সেল ভাইরাল প্রোটিনের প্রতিরোধী অ্যান্ডিবডি তৈরি করে রাখে। এই প্রক্রিয়াকে বলে অ্যান্টিবডি বেসড ইমিউন রেসপন্স বা অ্যাডাপটিভ ইমিউন রেসপন্স তৈরি করা।অর্থাৎ বাইরে থেকে প্যাথোজেন বা ভাইরাল প্রোটিন ঢুকিয়ে দেহকোষকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে উদ্দীপিত করা। পাশাপাশি এমন ক্ষতিকর ভাইরাল প্রোটিনগুলোকে চিনিয়ে রাখা, যাতে ভবিষ্যতে এমন মারণ ভাইরাসের প্রোটিন দেখলে দেহকোষ নিজে থেকেই সতর্ক হয়ে যেতে পারে। আর তাকে আটকানোর জন্য অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।
অধ্যাপক উগার বলেছেন, তাঁদের সংস্থার বানানো এই ভ্যাকসিনও ভাইরাসের উপযোগী অ্যান্টিবডি তৈরিতে সক্ষম। মানুষের উপর ট্রায়াল করলেই সেটা বোঝা যাবে।
আগামিকাল থেকেই মানব শরীরে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করতে চলেছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্ট জানিয়েছেন, তাঁরা আশাবাদী যে তাঁদের তৈরি ভেক্টর ভ্যাকসিন ইবোলার মতোই ধ্বংস করবে সার্স-কভ-২ আরএনএ ভাইরাল স্ট্রেনকেও। অন্যদিকে, আমেরিকার বায়োটেকনোলজি ফার্ম মোডার্না তাদের এমআরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের প্রথম হিউম্যান ট্রায়াল সেরে ফেলেছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই আরএনএ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল করা হবে মানুষের উপরে। মানব শরীরে ভ্যাকসিনের পরীক্ষার জন্য তৈরি চিনও। বেজিং-এর সিনোভাক বায়োটেক ও উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টসের যৌথ উদ্যোগে তৈরি ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের ট্রায়াল হবে মানুষের শরীরে।