করোনার ভয়ঙ্কর ডেল্টা ঠেকাচ্ছে ভ্যাকসিন, বয়স্কদের শরীরেও ৯০% কার্যকরী
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের ভ্যাকসিন (Covid Vaccine) নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটছে। ভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিনে ঠেকানো যাবে কিনা সে নিয়ে এতদিন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। এমনও খবর শোনা গেছিল, যে কোভিড ফের তার রূপ বদলালে ভ্যাক
শেষ আপডেট: 11 October 2021 08:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোভিডের ভ্যাকসিন (Covid Vaccine) নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটছে। ভাইরাসের অতি সংক্রামক ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট ভ্যাকসিনে ঠেকানো যাবে কিনা সে নিয়ে এতদিন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছিল। এমনও খবর শোনা গেছিল, যে কোভিড ফের তার রূপ বদলালে ভ্যাকসিনের প্রভাবও দমিয়ে দেবে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন, কোভিডের ভ্যাকসিন বহুগুণে কার্যকরী হচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, করোনার ডেল্টা প্রজাতির সংক্রমণও ঠেকিয়ে দিচ্ছে ভ্যাকসিন। কমবয়সীরা তো বটেই বয়স্কদের শরীরেও দারুণ কাজে দিচ্ছে।
ফ্রান্সের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি একটি পরীক্ষা করেন, তাতে দেখা গেছে ৫০ থেকে ৭৫ বছর বয়সীদের শরীরে প্রায় ৯০ শতাংশ কার্যকরী হয়েছে কোভিড ভ্যাকসিন। ৭৫ ঊর্ধ্বদের শরীরে ৮৪ শতাংশ কার্যকরী। ডেল্টা প্রজাতির সংক্রমণ হয়েছে এমন ব্যক্তিকে ভ্যাকসিন দেওয়ার পরে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক কমেছে।
কোভিডের যে কটা সংক্রামক প্রজাতি নিয়ে খুব বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছেন তার মধ্যে একটি হল ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট বি.১.৬১৭.২। ব্রিটেন স্ট্রেন, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রজাতি, ব্রাজিলীয় প্রজাতি ও ভারতের ডবল ভ্যারিয়ান্ট—এই প্রজাতিগুলোই এখন উদ্বেগের কারণ। ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট হল ভারতীয় প্রজাতি তথা ডবল ভ্যারিয়ান্টেরই একটি পরিবর্তিত রূপ। ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, ডবল ভ্যারিয়ান্ট তথা বি.১.৬১৭ প্রজাতিও একই ভাবে বদলে গেছে। পর পর তিনবার জিনের গঠন বিন্যাস বদলে তিনটি নতুন উপ প্রজাতি তৈরি করেছে--বি.৬১৭.১, বি.১.৬১৭.২ ও বি.১.৬১৭.৩। এদের মধ্যে বি.১.৬১৭.২ স্ট্রেনের নাম দেওয়া হয়েছে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট, এটিই সবচেয়ে সংক্রামক বলে দাবি করা হয়েছে।
এই বদল বা মিউটেশন এত ঘন ঘন হয়েছে যে শুরুতে কোন প্রজাতি ছিল এবং তার জিনের বিন্যাস কেমন ছিল তা এখন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কাজেই একই ভ্যাকসিনের ফর্মুলায় নতুন ভ্যারিয়ান্টকে নিষ্ক্রিয় করা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছিল। নতুন পরীক্ষায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, সিন্থেটিক আরএনএ দিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন ভাইরাসের বিভাজন অনেকটাই থামাতে পারে। এমআরএনএ হল শরীরের বার্তাবাহক। এর কাজ কোন কোষে প্রোটিন তৈরি হচ্ছে, কোথায় কী রাসায়নিক বদল হচ্ছে সবকিছুর জিনগত তথ্য বা ‘জেনেটিক কোড’ জোগাড় করে সেটা শরীরের প্রয়োজনীয় জায়গায় পৌঁছে দেওয়া। তাই এই বার্তাবহ আরএনএ দিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন শরীরের কোষগুলিকে অ্যান্টি-ভাইরাল প্রোটিন তৈরি করতে উৎসাহ দেবে। এই ভ্যাকসিন মানুষের দেহকোষে ঢুকে করোনাভাইরাসের মতো প্রোটিন তৈরি করার নির্দেশ দেবে। সেই প্রোটিনের বাইরে খোলসটা হবে ঠিক সার্স-কভ-২ ভাইরাল স্ট্রেনের মতোই। অথচ করোনার মতো অতটা সংক্রামক নয়। দেহকোষ তখন এমন ধরনের প্রোটিন দেখে তার প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করবে। সেদিক থেকে ফাইজার-বায়োএনটেক ও মোডার্নার আরএনএ ভ্যাকসিন সফল হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। অ্যাস্ট্রজেনেকার ভ্যাকসিনেও একই রকম কাজ হচ্ছে বলে দাবি গবেষকদের।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'