
শেষ আপডেট: 23 November 2023 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরকাশীতে টানেল বিপর্যয়ের ১১দিন পেরিয়ে গেছে। উদ্ধারকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর কিছু মুহূর্ত। তার পরই অন্ধকার পেরিয়ে আলোর মুখ দেখবেন উত্তরকাশীর সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১ জন শ্রমিক। ইতিমধ্যে তাঁদের জন্য তৈরি হয়েছে অস্থায়ী হাসপাতাল। সুড়ঙ্গের বাইরে রয়েছে অন্তত ৪০টা অ্য়াম্বুল্যান্স। এমনকী, রয়েছে এয়ার লিফটের ব্যবস্থাও। সবমিলিয়ে উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশীতে উদ্ধারকার্যের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি তুঙ্গে।
আজ বৃহস্পতিবার সকালের মধ্য়েই উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা সুড়ঙ্গে ঢুকতে শুরু করেছেন। এনডিআরএফের তরফে জানানো হয়েছে, শ্রমিকদের বের করে আনার জন্য যে ইভাকুয়েশন পাইপ ঢোকানো হচ্ছে ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে, তা, আর ১০ মিটারের মতো খনন করলেই শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনো যাবে। সকাল থেকে সেই চেষ্টাই শুরু হয়েছে। তবে পাইপের মুখ জল-কাদা জমে আটকে যাওয়ায় তা পরিষ্কার করে খননকাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে সময় লাগছে। তাছাড়া সুড়ঙ্গের ইস্পাতের কংক্রিট ভেঙে ভেতরে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। সেসব সরানোয়ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। উদ্ধারকাজ তাই ধীর গতিতেই এগোচ্ছে।
মনে করা হচ্ছিল, বুধবার রাতেই ৪১ শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সেই লক্ষ্যে রাতভর কাজ করেছিলেন উদ্ধারকারীরা। কিন্তু সুড়ঙ্গের ভিতরে থাকা লোহা এবং স্টিলের জালে ড্রিল মেশিন আটকে যাচ্ছিল বার বার। শেষপর্যন্ত গ্যাস কাটার এনে সেই জঞ্জাল সাফ করতে হয়। ভোররাতের দিক থেকে ফের শুরু হয় উদ্ধারকাজের প্রক্রিয়া। ধ্বংসস্তূপকে আড়াআড়িভাবে কেটে সুড়ঙ্গের ভিতরে বিশালাকার পাইপ বসিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চলছে। সব ঠিক থাকলে আর কিছুক্ষণের মধ্যেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবেন উদ্ধারকারীরা। ১২ দিন অন্ধকারে কাটানোর পর আলোর মুখ দেখবেন শ্রমিকরা। উদ্বেগ কাটবে দেশবাসীর।
দুর্ঘটনাস্থলের ঠিক বাইরেই কন্ট্রোলরুম তৈরি হয়েছে। সুড়ঙ্গের বাইরে পৌঁছেছে চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জামও। যাতে উদ্ধারের পরই শ্রমিকদের চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যায়, তার জন্য সেই কন্ট্রোলরুমের ভিতরেই আট শয্যার একটি অস্থায়ী হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সবসময় থাকছেন ১৫ জন চিকিৎসকের একটি দল। তাছাড়া অক্সিজেন সিলিন্ডার, অক্সিজেন মাস্ক, স্ট্রেচার, রক্তচাপ মাপার যন্ত্র, রক্তচাপ স্বাভাবিক করার যন্ত্রও রয়েছে কন্ট্রোলরুমে। চিনিয়ালিসাঘরের একটি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারেও শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় কেউ থাকলে যাতে দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায় সে জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও হেলিকপ্টারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, উত্তরকাশীর সিল্কইয়ারা এবং দণ্ডলগাঁওয়ের মাঝে তৈরি হচ্ছিল ওই সুড়ঙ্গটি। টানেলটি সাড়ে চার কিলোমিটার লম্বা। তারই মধ্যে ১৫০ মিটার লম্বা এলাকা জুড়ে আচমকাই ধস নামে। আটকে পড়েন ৪১ শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে বাংলারও তিনজন রয়েছেন। গত ১২ দিন ধরে অন্ধকার সুড়ঙ্গে আটকে রয়েছেন তাঁরা। আর কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁরা যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন বলেই আশা করা হচ্ছে।