দ্য ওয়াল ব্যুরো : ভারত ও পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনার আবহেই ফের রাফায়েল প্রসঙ্গ তুলেছে কংগ্রেস। বালাকোটে ভারতীয় বায়ুসেনার হানায় কতজন মারা গিয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক কংগ্রেস নেতা। তার জবাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মন্তব্য করেছেন, আকাশপথে পাকিস্তানে হানা দেওয়ার সময় আমাদের বায়ুসেনা রাফায়েল বিমানের অভাব অনুভব করেছে। এরপরে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, কয়েকজনের ‘স্বার্থনীতির’ জন্যই ওই বিমান এখনও ভারতে আসেনি। কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে। সোমবার মোদী ফের বলেছেন, কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে ফেলবেন না।
এদিন গুজরাতের জামনগরে এক জনসভায় মোদী বলেন, আমি বলতে চেয়েছিলাম, এই সময় যদি আমাদের হাতে রাফায়েল জেট থাকত, তাহলে আমাদের একটাও যুদ্ধবিমান ধ্বংস হত না। পাকিস্তানের একটা বিমানও রক্ষা পেত না। রাফায়েল বিমান যদি ঠিক সময়ে কেনা হত, তাহলে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের ফল হত অন্যরকম।
এর আগে গত সপ্তাহের শেষে দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে মোদী বলেন, সারা দেশ আজ একসুরে প্রশ্ন করছে, এখন আমাদের হাতে রাফায়েল থাকলে কী হত?
কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের আমলে ফ্রান্স থেকে ৩৬ টি রাফায়েল বিমান কেনার কথা হয়। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। গতমাসে পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার বদলা নিতে বায়ুসেনাকে ব্যবহার করা হয়েছে। ভারতের বিমান পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে বোমা ফেলে এসেছে জইশের ঘাঁটিতে। পরে পাকিস্তানের এফ ১৬ বিমানকে তাড়িয়ে দিয়েছে বায়ুসেনা। তখন ভারতেরও একটি বিমান ভেঙে পড়েছে। উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান পাকিস্তানি সেনার হাতে ধরা পড়েছেন।
মোদীর বক্তব্য, ভারতে যদি রাফায়েল বিমান থাকত, তাহলে পাকিস্তানিরা ধ্বংস করতে পারত না। ভারতে ঢুকে অক্ষত ফিরেও যেতে পারত না পাকিস্তানের কোনও বিমান।
একথার জবাবে টুইট করেছেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। তিনি লেখেন, প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কি লজ্জা নেই? আপনি ৩০ হাজার কোটি টাকা চুরি করে আপনার বন্ধু অনিলকে দিয়েছেন। রাফায়েল জেট কিনতে যদি দেরি হয়, তার জন্য দায়ী আপনি একাই। আপনার জন্যই উইং কম্যান্ডার অভিনন্দনের মতো বীর সৈনিকরা পুরানো বিমানে চড়ে যুদ্ধ করছেন। এতে তাঁদের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1101890250643857409
কংগ্রেসের বক্তব্য এনডিএ সরকার ফ্রান্সের দাসো কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি করেছে, তা আদৌ স্বচ্ছ নয়। অনেক বেশি দাম দিয়ে ওই বিমান কেনা হচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত হ্যালকে বাদ দিয়ে শিল্পপতি অনিল অম্বানির সংস্থাকে দাসোর অফসেট পার্টনার করা হয়েছে।