দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনা সংকটে আমেরিকার বহু বিশ্ববিদ্যালয়েই ক্লাস হচ্ছে অনলাইনে। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়ে দিল, যে ছাত্রছাত্রীরা অনলাইনে ক্লাস করছেন, তাঁদের আমেরিকায় থাকার ভিসা প্রত্যাহার করা হবে। অর্থাৎ তাঁরা দেশে ফিরে গিয়ে অনলাইনে ক্লাস করবেন।
আমেরিকার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্টের তরফে বলা হয়েছে, যে ছাত্ররা অনলাইনে ক্লাস করছেন, তাঁদের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। নয়তো এমন কোনও কোর্সে ভর্তি হতে হবে যেখানে ব্যক্তিগতভাবে ক্লাসে হাজির হওয়া জরুরি। বিদেশ মন্ত্রক স্থির করেছে, যে ছাত্ররা অনলাইনে ক্লাস করা যায় এমন কোর্সের জন্য আবেদন করেছেন, তাঁদের ভিসা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আগামী দিনে ওই ধরনের ছাত্রদের আর ভিসা দেওয়া হবে না।
আমেরিকার বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজে অনলাইনে পড়ানো হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে কয়েকটি ক্লাসে ছাত্রদের ক্লাসে আসতেও বলা হয়েছে। অবশ্য হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় স্থির করেছে, প্রতিটি কোর্স করানো হবে অনলাইনে।
ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনের তরফে জানানো হয়েছে, ২০১৮-১৯ এর শিক্ষাবর্ষে আমেরিকায় ১০ লক্ষ বিদেশি ছাত্র আছেন। আমেরিকায় যত ছাত্র উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন, তাঁদের ৫.৫ শতাংশ বিদেশি। ২০১৮ সালে বিদেশি ছাত্রদের মারফৎ আমেরিকার আয় হয়েছিল ৪৪৭০ কোটি ডলার।
আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ছাত্র আসেন চিন থেকে। তার পরেই আছেন ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব এবং কানাডার ছাত্ররা।
এর আগেই জানা গিয়েছিল, বিদেশি কর্মীদের ভিসা দেওয়ার ব্যাপারে কড়াকড়ি করছে ট্রাম্প প্রশাসন। চলতি বছরে এইচ ওয়ান বি ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়েছে। আগামী দিনে শুধুমাত্র অতি দক্ষ এবং খুব বেশি বেতনের কর্মীদেরই আমেরিকায় ওয়ার্ক ভিসা দেওয়া হবে। আমেরিকায় কম মাইনের চাকরিতে যাতে বিদেশিরা কাজ করতে না পারেন, সেদিকে সতর্ক নজর রাখবে প্রশাসন।
সম্প্রতি মার্কিন প্রসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্দেশ দেন, চলতি বছরের জন্য এইচ ওয়ান বি ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে। এর পরেই হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে ওই ভিসা দেওয়ার পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হবে। কেবলমাত্র অতি দক্ষ কর্মীরাই যাতে আমেরিকায় কাজ করার অধিকার পান, বিদেশিদের জন্য কোনও মার্কিন নাগরিকের চাকরি না যায়, সেদিকে লক্ষ রাখা হবে। ভবিষ্যতে আমেরিকার কোনও নিয়োগকর্তা সস্তায় বিদেশি কর্মী রাখতে পারবেন না।
আগামী দিনে এইচ ওয়ান বি ভিসা দেওয়া হবে কম আবেদনকারীকে। গত বছর ২ লক্ষ ২৫ হাজার আবেদনকারী ওই ভিসা পেয়েছিলেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী দিনে কিছুতেই বছরে ৮৫ হাজার জনের বেশি ওই ভিসা পাবেন না।