দ্য ওয়াল ব্যুরো: চায়না পাকিস্তান ইকোনমিক করিডোর নিয়ে ভারতের উদ্বেগের কথা চিনকে জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বহু লক্ষ মার্কিন ডলার ব্যয়ে চিনের ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড (ওবিওআর) প্রকল্পে বড় দেশগুলির মধ্যে একমাত্র ভারতই আপত্তি জানিয়েছে। এর সঙ্গে ভারতের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন জড়িয়ে। কারণ এই রাস্তা যাচ্ছে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মধ্য দিয়ে। এই জায়গাকে নয়াদিল্লি চিরকালই ভারতের অংশ বলে দাবি করে এসেছে।
ওবিওআর প্রকল্পটি চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অত্যন্ত পছন্দের প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে তিনি আফ্রিকা, এশিয়ার কয়েকটি দেশ ও ইউরোপের সঙ্গে চিনকে সড়কপথে যুক্ত করতে চান বাণিজ্যিক কারণে।
ওবিওআর প্রকল্প নিয়ে তিনি বলেন, চিনের লক্ষ্য হল অতিরিক্ত শ্রমিক, অতিরিক্ত পুঁজি ও অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা রফতানি করা, অর্থাৎ চিন তার নিজের সমস্যাগুলো রফতানি করতে চাইছে। এর ফলে সাময়িক ভাবে অন্য দেশের উপর দিয়ে চিন তার অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলো থেকে রেহাই পাবে। এই রোড বেল্টের ধারে চিনের ৯৫ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থা রয়েছে যারা পরিকাঠামো শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারে একটি প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত সহ-সচিব অ্যালিস ওয়েলস বলেন, “ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড প্রকল্পের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে ভারত তার অবস্থান একেবারে স্পষ্ট করে দিয়েছে।” তিনি বলেন, “ভারতের যে উদ্বেগ তার কোনও অর্থনৈতিক ভিত্তি নেই, তাদের উদ্বেগ সার্বভৌমত্ব নিয়ে।”
পাকিস্তানের গভীর সমুদ্র বন্দর গদর নিয়েও ভারতের উদ্বেগগের কথা জানান অ্যালিস, কারণ এই বন্দরের বাণিজ্যিক ভিত্তি কী তা এখনও স্পষ্ট নয়। বন্দরটি আরব সাগরে। এই প্রকল্পের কাজ দীর্ঘ দিন ধরেই চলছে, কিন্তু কেউই জানে না যে এর অর্থনৈতিক ভিত্তি কী আছে।
জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে সম্প্রতি নিজেদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি জানিয়ে দিয়ছে, জম্মু-কাশ্মীর কোনও দিনই পাকিস্তানের অংশ ছিল না, তাই এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে যা আলোচনা হবে তা সীমাবদ্ধ থাকবে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েই। চিনের প্রস্তাবিত প্রকল্প এই ভৌগোলিক অঞ্চলের উপর দিয়েই হচ্ছে, তাতে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে ভারত।
জম্মু-কাশ্মীরের একাংশ চিনের দখলেও রয়েছে।