দ্য ওয়াল ব্যুরো: এখনও ভাল করে রক্তের দাগ শুকোয়নি শ্রীলঙ্কার ইতিউতি। মৃত্যু মিছিল থেমেছে সম্ভাব্য ২৫০-এ। এখনও দেশ জুড়ে সতর্কতা জারি, ফের হতে পারে হামলা। এই অবস্থায়, ধর্মীয় স্থানে ফের একই ভাবে হামলা হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিল আমেরিকাও।
শ্রীলঙ্কার মার্কিন দূতাবাস রিপোর্ট দিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় এখনও আত্মঘাতী জঙ্গিদের উপস্থিতি রয়েছে। ফের সপ্তাহান্তে একই ভাবে হামলা চালানো হতে পারে শ্রীলঙ্কার নানা জায়গায়।
শ্রীলঙ্কার মার্কিন দূতাবাসের তরফে একটি ট্যুইট করে বলা হয়েছে, উইকেন্ডে অর্থাৎ ২৬ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ধর্মীয় স্থানগুলিতে যেন কেউ না যায়। কোথাও যেন বড় কোনও জমায়েত যাতে না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।
এর আগে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংহ জানিয়েছেন, যে প্রশাসনের অনুমান, এখনও লুকিয়ে আছে জঙ্গিরা। সম্ভবত তাদের কাছ আছে বোমাও। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, যে অনেক সন্দেহভাজনকে বন্দি করা হলেও, এখনও অনেকেই সারা দেশের নানা জায়গায় ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এরই মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, ইস্টার রবিবারের হামলায় তিন মহিলা-সহ চার জনকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিন জনের ছবিও প্রকাশ করেছে শ্রীলঙ্কা। হামলার পরে কয়েক দিন কেটে গেলেও এখনও কলম্বো ও নেগোম্বো শহরে এখনও দোকানপাট সব বন্ধ। মানুষজন ঘর থেকেও বিশেষ বেরোচ্ছেন না।
ইস্টার রবিবারে তিনটি চার্চ এবং তিনটি বিলাসবহুল হোটেলে ধারাবাহিক আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ হয়৷ প্রায় ২৫০ জন নিহত হন এবং ৫০০-রও বেশি জন আহত৷ এর পরেও আরও বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয় শ্রীলঙ্কায়৷ মঙ্গলবার জানা যায়, ক্রাইস্ট চার্চ মসজিদে হামলার বদলা নিতে শ্রীলঙ্কায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে আইএস জঙ্গিরা৷
এ দিকে, বৃহস্পতিবারেই পদত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রতিরক্ষা সচিব হেমাসিরি ফার্নান্দো৷ শ্রীলঙ্কা বিস্ফোরণের পর প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপালা সিরিসেনা পদত্যাগ দাবি করেন প্রতিরক্ষা সচিবের কাছে৷ এর পরে বৃহস্পতিবার ফার্নান্দো তাঁর পদত্যাগ পত্র জমা দেন।