দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু ও কাশ্মীরে জারি হওয়া বিধিনিষেধ দ্রুত প্রত্যাহার করুক নয়াদিল্লি, এমনটাই চাইছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের অধিবেশনের মাঝে সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলাদা করে বৈঠক করেছেন। তিনি কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে মধ্যস্থতাও করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা না হলেও, ওয়াশিংটন ডিসি দিল্লিকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা চায় কাশ্মীর থেকে দ্রুত এই বিধি নিষেধ তুলে নেওয়া হোক। মুক্তি দেওয়া হোক আটক রাজনৈতিক নেতাদের। স্বাভাবিক করা হোক পরিস্থিতি।
জম্মু ও কাশ্মীর থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পরই বিধি আরোপ করা হয় উপত্যকায়। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা যাতে কোনও সুবিধে করতে না পারে সে জন্য ইন্টারনেট ও ল্যান্ড লাইন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় প্রশাসন। পরে ল্যান্ড লাইন চালু হলেও ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্ধ। মেহেবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ, ফাহরুক আবদুল্লাহের মতো নেতারা সতর্কতামূলক গ্রেফতারিতে রয়েছেন। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, কাশ্মীরে স্বাভাবিক পরিস্থিতি নেই। এই সব বিধিনিষেধের কারণে সেখানকার নাগরিকদের মৌলিক অধিকার ধাক্কা খাচ্ছে। তাই হোয়াইট হাউস মনে করে দ্রুত এই বিধিনিষেধ তুলে নিক দিল্লি।
কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক দরবারে নালিশ করছে। পাশে কাউকে না পেলেও চিনকে পেয়েছিল ইমরান খান প্রশাসন। পাকিস্তানের বক্তব্য, সবাইকে অন্ধকারে রেখে বন্দুকের শাসন চলছে কাশ্মীরে। নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত নেই।
নিউ ইয়র্ক সফরে মোদীর সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম বৈঠকের পর যা বলেছিলেন, ইমরানের সঙ্গে বৈঠকের পর ভিন্ন সুর শোনা গিয়েছিল তাঁর গলায়। প্রথম থেকেই ভারত কাশ্মীর নিয়ে তৃতীয় কোনও পক্ষের হস্তক্ষেপে রাজি নয়। তাও ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি মধ্যস্থতা করতে পারেন। তারপর ফের মোদীর সঙ্গে বৈঠক হয় ট্রাম্পের। সেখানে আবার নিজের ভোল বদলে ফেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বলেন, “মোদী রকস্টার। মোদী ভারতের পিতা।” কিন্তু বিধি তোলা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনিক কর্তার এই কথায় ফের সেই সুর বদলই দেখছেন অনেকে।