দ্য ওয়াল ব্যুরো : 'লেডিজ অ্যান্ড জেন্টলমেন, উই আর ডান। উই হ্যাভ এ ডিল!' বুধবার এমনই ঘোষণা করলেন হোয়াইট হাউসের কর্মী এরিক উয়েল্যান্ড। এদিন মার্কিন সেনেটে দুই দলের সদস্যরাই কোভিড-১৯ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। সেখানে স্থির হয় ব্যবসা, শ্রমিক ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রাণের জন্য বিরাট অঙ্কের প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে। উভয় দলের সম্মতিতে একটি ডিল স্বাক্ষরিত হয়। তাতে স্থির হয়েছে, আমেরিকার প্রাপ্তবয়স্কদের প্রত্যেককে ১২০০ ডলার অর্থাৎ ৯১ হাজার ৪৪৬ টাকা এবং শিশুদের ৫০০ ডলার অর্থাৎ ৩৮ হাজার ১০২ টাকা করে দেওয়া হবে। করোনাভাইরাস রুখতে খরচ করা হবে ২ হাজার কোটি ডলার। টাকার অঙ্কে তার মূল্য ১৫ লক্ষ কোটির বেশি।
আমেরিকায় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে করোনাভাইরাস মহামারী। বহু লোক মারা যাচ্ছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে শীঘ্রই মন্দা শুরু হবে মার্কিন অর্থনীতিতে। সেই মন্দা চলবে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস। সেই ধাক্কা সামলাতে মার্কিন সরকার যে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, তাতে অনেকের হাতে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। মন্দায় যাঁরা কর্মহীন হবেন, তাঁদের সাহায্য করা হবে। ছোট ব্যবসায়ীরাও সরকারি অনুদান পাবেন। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার। অর্থাৎ ২৭৯৭ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বিভিন্ন বৃহৎ শিল্প অল্প সুদে ঋণ পাবে। এর পাশাপাশি এয়ারলাইন্স ও হাসপাতালকেও ত্রাণ দেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে।
সেনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা মিচ ম্যাককোনেল বলেন, "কয়েকদিন ধরে আলোচনা করার পরে দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে। আমরা স্বাস্থ্যের পিছনে বিপুল অর্থ ব্যয় করব। অর্থনীতিতে হাজার কোটি ডলার সরবরাহ করা হবে। আমরা দ্রুত বিভিন্ন আমেরিকান পরিবার, ছোট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের সাহায্য করব।"
মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মানুষ যাতে শীঘ্র কর্মক্ষেত্রে ফিরতে পারে তার ব্যবস্থা করা দরকার। তাঁর বিশ্বাস, এক মাসের মধ্যে আমেরিকার অনেকাংশে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাঁর কথায়, "আমাদের ফের কাজে যেতে হবে। মানুষ যত তাড়াতাড়ি কাজে যাবে ভাবছে, তার আগেই যেতে হবে।" তিনি চান, ১২ এপ্রিলের মধ্যে আমেরিকায় লকডাউন তুলে দিতে।
এর মধ্যে আমেরিকা দাবি করেছে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধী ড্রাগ ‘রেমডেসিভির’ (Remdesivir)বড় হাতিয়ার হতে পারে। ইবোলা আক্রান্ত রোগীদের উপরে এই ড্রাগ তেমন প্রভাব ফেলতে পারেনি। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, করোনার সংক্রমণ রোখার মতো ক্ষমতা নাকি আছে এই ড্রাগের। তাতে সম্মতি জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (হু)।
রেমডেসিভির ড্রাগের আবিষ্কর্তা আমেরিকার জিলেড সায়েন্সেস। ২০১০ সালেই এই ড্রাগ তৈরি হয়। জিলেড সায়েন্সেস তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কিছুটা হলেও কাজে এসেছিল এই ড্রাগ। আর সার্স-কভ-২ (SARS-COV-2) যেহেতু সার্স (SARS) ও মার্সের (MERS) মতোই করোনাভাইরাস পরিবারের সদস্য, কাজেই এই সংক্রমণ ঠেকাতেও রেমডেসিভির কাজে আসবে আশা করাই যায়। ইতিমধ্যেই চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপর এই ড্রাগের প্রভাব কার্যকরী হয়েছে বলে দাবি করেছেন জিলেড সায়েন্সেসের বিজ্ঞানীরা। যদিও এখনও গবেষণার স্তরেই রাখা হয়েছে রেমডেসিভিরকে।