দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাম্প প্রশাসনের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার থেকে এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে পিছিয়ে নেই ভারত। মার্কিন বিদেশসচিব মাইক পম্পেয়োর সঙ্গে বৈঠকে সেই প্রসঙ্গই অন্যতম আলোচ্য বিষয় উঠতে পারে। আজ পম্পেয়োর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের বৈঠক হওয়ার কথা। এই বৈঠকের আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে, সন্ত্রাস দমন, ক্ষেপণাস্ত্র, এইচ১বি ভিসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, নিরাপত্তা।
ভারত সফরের জন্য ২৪ জুন আমেরিকা থেকে রওনা দিয়েছেন পম্পেয়ো। জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ঠিক আগেই ভারত সফরে আসছেন তিনি। দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যখন বহু সমস্যা-সঙ্কুলিত, তখন আমেরিকার বিদেশ সচিবের সফরকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে সাউথ ব্লক। ভারত-মার্কিন ‘শুল্ক যুদ্ধ’-এর আবহে পম্পোয়োর আগমন ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বিশেষ গুরুত্বুূর্ণ হয়ে উঠবে বলেই কূটনৈতিক মহলের দাবি।
সাউথ ব্লকের একাংশের মতে, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন মোদী এবং ট্রাম্প। সেখানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তার আগে পম্পেয়োর সফরে নিজেদের দাবিগুলো আদায়ের চেষ্টা করবেন বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকেরা। আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে একাধিক। প্রথমত, রাশিয়ার সঙ্গে অস্ত্র চুক্তিতে কোনও ভাবেই পিছু হঠতে রাজি নয় ভারত। বিশেষত পুলওয়ামা ও বালাকোট কাণ্ডের পরে নিরাপত্তা আরও জরদার করতে রাশিয়ার প্রযুক্তিতে তৈরি এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা কেনার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। অথচ এই ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার এই চুক্তিকে ভালো চোখে দেখছে না ট্রাম্প প্রশাসন। পম্পোয়োর সঙ্গে বৈঠকে এই প্রসঙ্গ বিশেষ ভাবে উঠে আসবে বলেই সূত্রের খবর।
দ্বিতীয়ত, এইচ১বি ভিসা নিয়ে আলোচনা হতে পারে দু'তরফে। মাইক পম্পেয়ো আশ্বাস দিতে পারেন যে, বার্ষিক বরাদ্দ মোট এইচ১বি ভিসার সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশই ভারতীয়দের দেওয়া হবে— এমন কোনও নিয়ম ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন চাপাবে না। এইচ১বি ভিসার ৭০ শতাংশ উপভোক্তাই ভারতীয়, যাঁদের একটা বড় অংশ তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী।
তৃতীয়ত, প্রেডিসেন্ট ট্রাম্প একের পর এক যে সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাতে চাপ বেড়েছে ভারতের। ইরান থেকে তেল আমদানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করত ভারত। এর বিকল্প নিয়েও আলোচনা হতে পারে।
চতুর্থত, অনেকেই মনে করছেন, পম্পেয়োর ভারত সফরের লক্ষ্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও দুই দেশের সম্পর্ককে আরও মজবুত করার বিষয়েও জরুরি আলোচনা হতে পারে।