দ্য ওয়াল ব্যুরো : রাশিয়া এবং চিন করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছে বলে প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু কোভিড গবেষণায় তাদের অগ্রগতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে আমেরিকা। তাদের আশঙ্কা, চিন বা রাশিয়া ভ্যাকসিন বানালে তা মানবদেহের পক্ষে নিরাপদ নাও হতে পারে। তাই আমেরিকার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিনা বা রাশিয়ান ভ্যাকসিন তাঁদের দেশে ব্যবহার না করাই ভাল।
ছ'মাস আগে হু ঘোষণা করেছিল, বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা অতিমহামারী। তারপরে ওই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৭৯ লক্ষ মানুষ। মারা গিয়েছেন ৬ লক্ষ ৭৯ হাজার জন। পশ্চিমী দেশগুলি করোনার সেকেন্ড ওয়েভ ঠেকাতে নতুন করে জারি করেছে লকডাউন। হু জানিয়েছে, এই ধরনের অতিমহামারী ১০০ বছরে একবারই আসে।
সারা বিশ্বই এখন করোনার ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করছে। চিনের কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছে, অল্পদিনের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে প্রতিষেধক। রাশিয়া নির্দিষ্ট করে জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরেই তারা বাজারে প্রতিষেধক আনতে পারবে। কিন্তু আমেরিকার সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফৌজি বলেছেন, অন্যান্য দেশের তৈরি করা প্রতিষেধক ব্যবহার করা ঠিক হবে না। কারণ সেসব দেশে পাশ্চাত্যের মতো কড়া বিধিনিষেধ নেই। শুক্রবার মার্কিন কংগ্রেসে ফৌজি বলেন, "আমি আশা করব রাশিয়া বা চিন মানুষের দেহে ভ্যাকসিন প্রয়োগের আগে যথাযথভাবে পরীক্ষা করবে। কোনও পরীক্ষার আগেই যদি কেউ বলে, ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গিয়েছে, তাতে সমস্যাই সৃষ্টি হবে।"
আমেরিকায় ভ্যাকসিন তৈরির কর্মসূচির নাম 'অপারেশন ওয়ারপ স্পিড'। সেই প্রকল্পে দুই বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানি সানোফি ও জিএসকে-কে ২১০ কোটি ডলার দিয়েছে মার্কিন সরকার। এর মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশে দেখা গিয়েছে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ। তার অন্যতম জাপান। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পরে জাপান জরুরি অবস্থা জারি করেছিল। কিন্তু সেজন্য নাগরিকরা ঘরে থাকতে বাধ্য হননি। বাজারও পুরোপুরি বন্ধ থাকেনি। মে মাসের শেষের দিকে জরুরি অবস্থা উঠে যায়। দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার চেষ্টা হতে থাকে। জুনে রেস্তোরাঁ ও পানশালাগুলি পুরো সময়ের জন্য খুলে দেওয়া হয়। বেসবল খেলা ও সুমো কুস্তিও চালু হয় পুরোদমে।
জুনের শেষদিকে নাইট ক্লাবগুলি থেকে নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য দফতরের অফিসাররা বিপদটা ছোট করে দেখাতে চেয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, সংক্রমণ কয়েকটি হটস্পটেই সীমাবদ্ধ।