দ্য ওয়াল ব্যুরো : আমেরিকার সেন্ট্রাল ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের দেওয়া তথ্যে জানা যায়, জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে দেশে দৈনিক ১৩ হাজার ৮৫৯ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের ৫২ শতাংশের শরীরে ডেল্টা ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া গিয়েছে। তার আগের দু’সপ্তাহের তুলনায় সংক্রমণের হার বেড়েছে ২১ শতাংশ। গত এপ্রিল থেকে আমেরিকায় কমেছে টিকাকরণের হার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, স্বাধীনতা দিবসের মধ্যে দেশের প্রাপ্তবয়স্কদের ৭০ শতাংশকে টিকা দেওয়া হবে। বাস্তবে ৬৭ শতাংশকে টিকা দেওয়া গিয়েছে।
আমেরিকার পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে টিকাকরণের হার তুলনামূলকভাবে কম। ওই সব অঞ্চলে করোনা সংক্রমণও বেশি হয়েছে। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যথেষ্ট সংখ্যক মানুষকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। সেখানে অতিমহামারীর প্রকোপ তুলনায় কম।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে জানা যায়, মিসৌরির স্প্রিংফিল্ডে একটি হাসপাতালে কোভিড আক্রান্তদের চিকিৎসা করার জন্য ভেন্টিলেটরের অভাব দেখা দিয়েছে। ওই শহরের লোকসংখ্যা ১ লক্ষ ৬০ হাজার। সোমবার শহরের দু’টি হাসপাতালে ২১৩ জন কোভিড রোগীর চিকিৎসা হয়েছিল। তার আগের শুক্রবার শহরে কোভিড রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬৮।
জন হপকিনস সেন্টার ফোর হেলথ সিকিউরিটির তরফে অমেশ আদালজা বলেন, “আমেরিকার যে সব অঞ্চলে টিকাকরণ কম হয়েছে, সেখানে অতিমহামারীর প্রকোপ বেশি। অন্যত্র করোনাকে নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে।”
আদালজা জানান, যেখানে বেশি সংখ্যক মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোভিডে আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সংখ্যা কম। মৃত্যুর সংখ্যাও কম। আপাতত পাওয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, ফাইজার, জনসন অ্যান্ড জনসন এবং অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিডের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কার্যকরী। মোডার্নার টিকা সম্পর্কেও একথা বলা যায়।
ইতিমধ্যে করোনা অতিমহামারীর উৎস সম্পর্কে জানার জন্য চিনের ওপরে চাপ বাড়াচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর (এফডিএ)-এর প্রাক্তন কমিশনার স্কট গটলিয়েব বলছেন, উহানের বায়োসেফটি ল্যাবরেটরি থেকে ভাইরাস লিক করেছিল এই সন্দেহটাই জোরদার হচ্ছে। কিন্তু চিন কিছুতেই এই বিষয়টা মেনে নিতে চাইছে না। পাল্টা দোষারোপ করছে।
স্কট গটলিয়েব ট্রাম্প জমানায় এইডিএ-র কমিশনার ছিলেন। এখন তিনি ফাইজারের বোর্ড অব ডিরেক্টরের সদস্য। এর আগেও একাধিকবার করোনার উৎস নিয়ে চিনের দিকেই আঙুল তুলেছিলেন তিনি। তবে তাঁর বক্তব্যকে উড়িয়ে চিন দাবি করেছিল, প্রকৃতিই ভাইরাসের উৎস। উহানের গবেষাগার থেকে কিছু ছড়ায়নি।
উহানের অতি সুরক্ষিত বায়োসেফটি লেভেল-৪ ল্যাবরেটরি থেকেই এই ভাইরাস ছড়িয়েছে কিনা সেই নিয়ে জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি চিনের ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হয় তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে বাইডেন প্রশাসনও একই কথা বলেছে। খুব দ্রুত ভাইরাসের উৎস খুঁজে বের করার জন্য মার্কিন গোয়েন্দাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৯০ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে।