দ্য ওয়াল ব্যুরো : অভিযোগ, মায়ানমারে রোহিঙ্গা (Rohingya) জনজাতির ওপরে গণহত্যা চালিয়েছিল সেদেশের সেনাবাহিনী। তখন শোনা গিয়েছিল, ফেসবুককেও 'গণহত্যার অস্ত্র' বানিয়ে ফেলেছে মায়ানমার সেনা। মার্কিন আদালত ওই সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিকে আগেই বলেছিল, রোহিঙ্গাদের নিয়ে যা নথিপত্র আছে, সব জমা দিতে হবে। কিন্তু 'গোপনীয়তার অধিকারের' কথা বলে ফেসবুক সেই নথি জমা দিতে অস্বীকার করে। কিন্তু বৃহস্পতিবার আমেরিকার ফেডারেল বিচারপতি ফেসবুককে কড়া নির্দেশ দিলেন, অবিলম্বে ওই নথি জমা দিতে হবে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুয়াত্রেস বলেছিলেন, বিশ্বে যে জনজাতিগুলি সবচেয়ে বেশি বৈষ্যমের শিকার, রোহিঙ্গারা তাদের অন্যতম। একসময় রোহিঙ্গা মুসলিমদের বেশিরভাগ মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে বাস করত। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনী সেখানে আক্রমণ করে। নোবেলজয়ী আউং সান সু চি-র আমলে হওয়া ওই হামলায় প্রায় ৭ লক্ষ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান মায়ানমারের প্রতিবেশী দেশগুলিতে। ২০১৮ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের এক রিপোর্টে বলা হয়েছিল, মায়ানমারের সেনাবাহিনী 'গণহত্যার উদ্দেশ্যে' রাখাইন প্রদেশে ব্যাপক খুনজখম ও ধর্ষণ করেছে।
রোহিঙ্গাদের ওপরে অত্যাচার নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে সরব হয় পশ্চিম আফ্রিকার গাম্বিয়া নামে একটি দেশ। তারা অভিযোগ করেছিল, মায়ানমার রাষ্ট্রপুঞ্জের ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সম্পর্কিত কনভেনশনে গৃহীত সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করেছে। মায়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা লড়ার জন্য গাম্বিয়া সরকার ফেসবুককে তথ্য দিতে বলে।
আমেরিকার 'নিউ ইয়র্ক টাইমস' সংবাদপত্রে ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে প্রকাশিত এক খবরে জানা যায়, মায়ানমারের সেনাবাহিনী 'এথনিক ক্লিনসিং' অর্থাৎ রোহিঙ্গা জনজাতিকে মুছে ফেলার জন্য ফেসবুককে কাজে লাগিয়েছিল। তারা ওই সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে প্রচার চালাত, আন্তর্জাতিকভাবেই বৌদ্ধধর্মের শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে মুসলিম ধর্ম। সেই সঙ্গে ভুয়ো খবর ছড়াত যে, রোহিঙ্গারা বৌদ্ধ রমণীদের ধর্ষণ করেছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসে লেখা হয়, ধারাবাহিকভাবে ঘৃণা প্রচারের ফলে রোহিঙ্গারা মায়ানমার ছেড়ে পালাতে শুরু করে। এক দশকের মধ্যে সেদেশে রোহিঙ্গা জনসংখ্যা হয়ে দাঁড়ায় অর্ধেক। ২০১৮ সালের অগাস্টে ফেসবুক মায়ানমার সেনাবাহিনীর ওই পোস্টগুলি মুছে দেয়। কিন্তু ততদিনে রোহিঙ্গাদের বিরাট ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার সংক্রান্ত তদন্তকারীরা বলেন, রাখাইন প্রদেশে হিংসা ছড়িয়ে পড়ার পিছনে ফেসবুকের বড় ভূমিকা আছে।
রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে বিভিন্ন পোস্ট আদালতে জমা না দেওয়ার জন্য ফেসবুকের কড়া সমালোচনা করেন ওয়াশিংটনের আদালতের বিচারপতি। তিনি বলেন, ফেসবুক এক্ষেত্রে গোপনীয়তার অধিকারের কথা বলেছে ঠিকই কিন্তু তাদের বক্তব্য স্ববিরোধিতায় ভরা।