দ্য ওয়াল ব্যুরো : সোমবার সন্ধ্যায় উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার বাসিন্দা এক যুবক হাসপাতালে মারা যান। ডাক্তারদের সন্দেহ হয়েছিল, তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। সেইমতো তাঁর লালারস পরীক্ষা করা হয়েছিল। বুধবার সেই পরীক্ষার ফলাফল জানা যায়। ডাক্তাররা বলছেন, তিনি সত্যিই করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁকে হাসপাতালের জেনারেল বেডে রাখা হয়েছিল। তাঁর থেকে অন্যান্য রোগীদের দেহে ওই রোগ সংক্রামিত হয়েছে কিনা, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
মৃত যুবকের বয়স ছিল ২৫। উত্তরপ্রদেশে করোনাভাইরাসে তাঁরই প্রথম মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়ার কিছুদিন আগে তিনি মুম্বই গিয়েছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে সেকথা গোপন করেন। সেজন্যই তাঁকে জেনারেল বেডে রাখা হয়েছিল।
ওই যুবক যে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, তা গোরখপুর শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ২৮ মার্চ যুবকের আত্মীয়রা তাঁকে হাসপাতালে আনেন। তাঁর শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। কিন্তু তিনি যে মুম্বইতে গিয়েছিলেন, সেকথা জানানো হয়নি। তাঁকে জেনারেল ওয়ার্ডে রাখায় সেখান থেকে হাসপাতালের কর্মী ও অন্যান্য রোগীর সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পরে উত্তরপ্রদেশ সরকার খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছে, কিছুদিন আগে তিনি মুম্বইতে গিয়েছিলেন।
বুধবার দুপুরে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে জানানো হয়, দেশে এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৩৭। তাঁদের মধ্যে সেরে উঠেছেন ১৩২ জন। মৃতের সংখ্যা ৩৮। বিদেশে চলে গিয়েছেন একজন। এখনও ১৪৬৬ জনের চিকিৎসা চলছে।
মঙ্গলবার ডিপার্টমেন্ট অব এপিডেমোলজি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের প্রধান আর আর গঙ্গাখেদকরকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ভারতে মাস্ক ব্যবহারের নির্দেশিকা কি বদল করা হবে? তিনি বলেন, "আপনাদের বোঝা উচিত, যেখানে বিপদ বেশি, সেখানেই মাস্কের প্রয়োজন হয়। আপনি যাতে নিজের মুখ স্পর্শ না করে ফেলেন সেজন্যই মাস্কের প্রয়োজন। আমেরিকায় যেভাবে করোনাভাইরাস মহামারী ছড়িয়েছে, তার সঙ্গে ভারতের পরিস্থিতির অনেক পার্থক্য আছে। এখানে অত বেশি সংক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই এখানে যাদের দেহে ওই রোগের লক্ষণ দেখা দিয়েছে, তারা বাদে কারও মাস্ক ব্যবহার করার দরকার নেই।"