উত্তর ভারতের বেশ কিছু জায়গায় প্রথম তুষার, পর্যটনের কোভিড-ক্ষতি রুখতে ভরসা প্রকৃতিই
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মরসুমের শুরুতেই উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় জমিয়ে শুরু হয়েছে তুষারপাত। এবার প্রথম তুষার পড়ল উত্তরাখণ্ডের কয়েকটা জায়গাতেও। যেমন রুদ্রপ্রয়াগের চোপতায় আজই প্রথম বরফ পড়েছে। চামোলি জেলার বদ্রীনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকাও ঢাকা প
শেষ আপডেট: 16 November 2020 14:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মরসুমের শুরুতেই উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় জমিয়ে শুরু হয়েছে তুষারপাত। এবার প্রথম তুষার পড়ল উত্তরাখণ্ডের কয়েকটা জায়গাতেও। যেমন রুদ্রপ্রয়াগের চোপতায় আজই প্রথম বরফ পড়েছে। চামোলি জেলার বদ্রীনাথ মন্দির সংলগ্ন এলাকাও ঢাকা পড়েছে বরফের চাদরে। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বসিত পর্যটকরা।
আর সেই সঙ্গেই আশা দেখা গিয়েছে, এবার হয়তো ঘুরে দাঁড়াতে পারে দেশের পর্যটন শিল্প। কোভিডের কারণে টানা আট মাসের ক্ষতি সামাল দিতে প্রকৃতির উপর বড় ভরসা করছেন ব্যবসায়ীরা।
উত্তরাখণ্ড,
হিমাচলপ্রদেশ, জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন জায়গায় পর্যাপ্ত তুষারপাতের ইঙ্গিত যেন সে ভরসাকেই আরও মজবুত করেছে।
এদিকে গত কয়েক দিন ধরে তুষারপাত বেড়েছে কেদারনাথে। দেখে মনে হচ্ছে বরফের চাদরে ঢেকে গিয়েছে কেদারনাথ মন্দির ও তার আশপাশের এলাকা। তাই আজ, সোমবার বন্ধ হল কেদারনাথ মন্দির। তার আগে শেষবার ভগবান শিবের পুজো হল এদিন। শেষদিনের পুজো দেখতে হাজির হয়েছিলেন বহু দর্শনার্থী। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াত এদিন কেদারনাথ যান। শেষ দিনের পুজোয় অংশ নেন তাঁরা। দুই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে তুষারপাতের শোভাও দেখেন।
উত্তরকাশীতে গঙ্গোত্রী মন্দির বন্ধ হয়েছে রবিবার। আজ সোমবার কেদারনাথের পর ১৯ নভেম্বর বন্ধ হবে বদ্রীনাথ মন্দির। ইন্ডিয়ান মিটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, আগামী কিছুদিন উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী, রুদ্রপ্রয়াগ, চামোলি, বাগেশ্বর, পিথরাগড়, তেহরি, দেরাদুন ও আলমোরা জেলার কিছু জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বাকি জায়গায় অবশ্য বৃষ্টি হবে না। ৩০০০ মিটারের বেশি উচ্চতায় বরফ পড়তে পারে বলেই জানিয়েছে মৌসম ভবন।
শুধু উত্তরাখণ্ড নয়, হিমাচলপ্রদেশের কিছু জায়গাতেও এ দিন বরফ পড়েছে বিভিন্ন জায়গায়। মানালি, সিমলার কুফরি এলাকাতেও বরফ পড়েছে আজ। এ ছাড়াও মন্ধোল জেলার একাধিক গ্রাম ঢাকা পড়েছে তুষারে। জম্মুর মুঘল রোড বন্ধ হয়ে গেছে উপত্যকায় বরফপাতের জেরে। বন্ধ রাখতে হয়েছে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের জওহর টানেলের অংশটিও। কল্পার প্রায় ২৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য শীতকাল কষ্টের ঋতু হলেও, হোটেল ও পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে। কারণ মহামারীর ছোবলে যে বিশাল ক্ষতি, তা সামলে নিতে পারার সুযোগ আসতে চলেছে এইবার। নিয়মবিধি মেনেই তাই শুরু হয়েছে পর্যটন।