
বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও উপেন বিশ্বাস।
শেষ আপডেট: 23 May 2024 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১০ সালের পরে তৈরি হওয়া সমস্ত ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বুধবার আদালতের রায় সামনে আসার পরই নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, 'আদালতের এই রায় মানছি না। ওবিসি সংরক্ষণ যেমন চলছে, তেমনই চলবে।"
আদালতের নির্দেশ ধরে নিলে বাতিল হতে পারে প্রায় ৫ লাখ ওবিসি সার্টিফিকেট। স্বাভাবিকভাবে শোরগোল তৈরি হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পরিস্থিতির জন্য বিরোধীরা শাসকদলকেই দুষছে। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার জন্য রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে দায়ী করলেন রাজ্যের প্রাক্তন অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন মন্ত্রী তথা প্রাক্তন আইপিএস উপেন বিশ্বাস।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উপেনবাবুর দাবি, "যদি কোথাও কোনও ভুল হয়ে থাকে তাহলে সেটার দায় তৃণমূলের সরকারের নয়। এর দায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর।"
প্রসঙ্গত, তৃণমূল জমানায় ২০১২ সালে ওবিসি নিয়ে যে বিধি তৈরি হয়েছিল , তখন রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন মন্ত্রী ছিলেন উপেনবাবু। তাঁর দাবি, "ওবিসি সংক্রান্ত আইন ২০১২ সালে তৃণমূল আমলে পাশ হলেও ২০১০ সালে বাম আমলে এই বিষয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছিল। সেখানে ৪১টি মুসলিম সম্প্রদায় সহ মোট ৪২টি সম্প্রদায়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। সেই সময় বুদ্ধবাবু লিখিতভাবে অর্ডারে লিখেছিলেন, 'আমি মুসলিমদের সংরক্ষণ দিচ্ছি। আরও দিতে হবে।' বুদ্ধবাবুর ওই নির্দেশটাই ছিল সংবিধান বিরোধী। সংবিধানে কোথাও জাতির ভিত্তিতে সংরক্ষণ দেওয়ার কথা বলা নেই।"
উপেন বিশ্বাসের এমন দাবিকে ঘিরে নতুন করে শোরগোল হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে এ ব্যাপারে তৃণমূল বা সিপিএমের কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ -এর অনগ্রসর জাতি সংক্রান্ত আইন অমান্য করার অভিযোগে ২০১২ সালের ওবিসি সংক্রান্ত বিধি বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। নির্দেশে বলা হয়েছে, ২০১২ সালের বিধি মেনে যাদের ওবিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি বৈধ নয়।