দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফোন করে তালাক! তালাক! তালাক! বলেছিলেন স্বামী। মানতে চাননি স্ত্রী। স্বামীর বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করেছিলেন। তারই খেসারত দিতে হল মর্মান্তিক ভাবে। কপালে জুটল বেধড়ক মার। পেটানো হল মহিলার পরিবারকেও। তাতেও রাগ না কমায়, ছুরি দিয়ে এক কোপে মহিলার নাক কেটে দিলেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। ঘটনা উত্তরপ্রদেশের সীতাপুর এলাকার।
ফৌজদারি অপরাধ হিসাবে গণ্য হয়েছে তিন তালাক প্রথা। তার পরেও ফোন করে তিন তালাক দেওয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছিলেন স্ত্রী। পুলিশকে অভিযোগকারিনী জানিয়েছিলেন, বিয়ের পর থেকেই মারধর করতেন স্বামী। যখন তখন গায়ে হাত তুলতেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রতিবাদ করলেই জুটত বেধড়ক মার, হুমকি। একদিন স্বামী ডেকে পাঠান তাঁর মাকে। এক সঙ্গে ঘর করতে পারবে না বলে জানিয়ে দেন। রাজি না হলে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বার করে দেন। এর পর ফোন করে তিন তালাক বলে দেন স্বামী।
মহিলার মা শারিফুন নিশার কথায়, "আমার মেয়েকে রোজই মারধর করত, মানসিক নির্যাতন চালাত এবং পণের দাবিও করত। পুলিশের কাছে তিন তালাকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করি।" এর পরেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন মহিলার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, "লাঠি, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে চড়াও হয় ওরা। আমাকে, মেয়েকে মারধর করে। মামলা তুলতে আমার মেয়ে রাজি না হলে ছুরি দিয়ে ওর নাক কেটে দেয় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।"
পুলিশ জানিয়েছে, মহিলার চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। তাঁর বাড়ির কয়েকজনও গুরুতর জখম। মহিলার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৯৮-এ (পারিবারিক হিংসা) এবং বিবাহিত মুসলিম মহিলাদের অধিকার রক্ষা আইন ২০১৯-এর আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।