দ্য ওয়াল ব্যুরো : কলেজ ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে যুক্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তিরা হস্টেলের ছাত্রীদের ওপরে অত্যাচার করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কথা পোস্ট করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে স্বামী সুখদেবানন্দ পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের এক ছাত্রী। তার পরেই তিনি নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। ২৩ বছরের ওই তরুণীর বাবা অভিযোগ করেছেন বিজেপির প্রাক্তন সাংসদ স্বামী চিন্ময়ানন্দের নামে। তিনিই ওই কলেজের ম্যানেজমেন্টের প্রেসিডেন্ট। পুলিশ এখনও সেই অভিযোগ গ্রহণ করেনি। স্বামী চিন্ময়ানন্দের আইনজীবী অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তাঁর মক্কেলের ওপর চাপ দিয়ে টাকা আদায়ের জন্য এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারিণী কলেজের হস্টেলে থাকতেন। তিনি এক ভিডিওয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, সন্ত সমাজের এক বড় নেতা বহু মেয়ের জীবন নষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি আমাকেও খুন করবেন বলে শাসাচ্ছেন। আমাকে বাঁচান। তিনি আমার পরিবারের লোকজনকেও খুন করবেন বলে শাসাচ্ছেন। দয়া করে আমাকে বাঁচান।
এর পরে তিনি অভিযোগ করেন, ওই সন্ন্যাসী জেলাশাসক ও পুলিশকে নিজের পকেটে পুরে রেখেছেন। তিনি নিজেই এই কথা বলেন। আমার কাছে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ আছে। গত ২৪ অগস্ট নিজের ফেসবুক পেজে তরুণী ওই ভিডিও পোস্ট করেন। তখন তিনি কোনও গাড়ির সিটে বসেছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে। গত তিন দিনে ওই ভিডিও অনেকে শেয়ার করেছেন।
রবিবার পুলিশে অভিযোগ জানিয়ে তরুণীর বাবা বলেন, মেয়ের ভিডিও দেখে আমি চিন্ময়ানন্দের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু বলতে পারিনি। তাঁর আশঙ্কা, মেয়েকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। ওই ভিডিও দেখে তাঁর ধারণা হয়েছে, হস্টেলের মেয়েদের ওপরে যৌন নির্যাতন চলত।
তাঁর কথায়, আমার মনে অনেক আশঙ্কা জাগছে। আমি আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়ে দেখেছি, আমার মেয়ে সেখানে যায়নি। আমার মেয়ে যাদের বিরুদ্ধে বলেছে, তারা খুব প্রভাবশালী লোক। রাজ্যে ও কেন্দ্রে তাদেরই সরকার আছে। আমি আশা করি মোদীজি ও যোগী আমাদের সাহায্য করবেন। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি। দায়ের হলে তারা তদন্ত করবে।