দ্য ওয়াল ব্যুরো: আনলফুল রিলিজিয়াস কনভার্সন প্রোহিবিশন অর্ডিন্যান্স অর্থাত ধর্মান্তকরণ করা যাবে না-- এই মর্মে উত্তরপ্রদেশে জারি হওয়া নয়া আইন দেখিয়ে এক তরুণ-তরুণীর বিয়ের রেজিস্ট্রি বানচাল করার অভিযোগ উঠেছিল মোরাদাবাদের বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। গ্রেফতার করা হয়েছিল মুসলিম ধর্মাবলম্বী বর এবং তাঁর ভাইকে। তরুণী স্ত্রীকে রাখা হয় সরকারি আশ্রয়ে। অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তিনি। এবার অভিযোগ উঠল, গত তিন দিনে দু'বার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে পেটে অসহনীয় ব্যথা এবং রক্তপাতের সমস্যা নিয়ে। পরিবার জানিয়েছে, গর্ভপাত হয়েছে তরুণীর। যদিও এ অভিযোগ স্বীকার করেনি পুলিশ।
এ মাসের গোড়ার দিকের ঘটনা। হিন্দু তরুণীর সঙ্গে বিয়ের রেজিস্ট্রি করার 'অপরাধে' লাভ জেহাদের অভিযোগ তোলে মোরাদাবাদের বজরং দলের স্থানীয় সদস্যরা। তারাই রেজিস্ট্রারের অফিসে গিয়ে গোলমাল করে বিয়ে থামায়। তার পরে ওই বর, বউ ও বরের ভাইকে স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মুসলিম যুবক ও তার ভাইকে গ্রেফতার করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।
এই ঘটনার একটি ভিডিও-ও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। এক মিনিট ১১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওয় দেখা যায়, মোরাদাবাদের কাঁঠ থানার চত্বরে ওই তরুণীকে ঘিরে ধরে আছে বেশ কিছু মানুষ। লাঠি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েক জন পুলিশকর্মীও। ভিডিওয় শোনা যায়, এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে বলছেন, "ইয়ে তুম জ্যায়সে লোগোঁকে লিয়ে বানানা পঢ়া হ্যায়।" অর্থাত, এই নতুন আইন তোমাদের মতো মানুষের জন্য বানানো হয়েছে!
ওই তরুণী পরে সংবাদমাধ্যকে জানান, তিনি ওই মুসলিম ব্যক্তিকে নিজের ইচ্ছেতেই বিয়ে করছেন। তাঁর কথায়, "আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা, আমার ২২ বছর বয়স। আমি আমার নিজের ইচ্ছেয় জুলাই মাসের ২৪ তারিখে বিয়ে করেছিলাম। আজ ৫ মাস হয়ে গেল আমরা বিবাহিত। এর পরেই রেজিস্ট্রি করতে যাই।"
বলাই বাহুল্য, তরুণীর এ কথা শুনতে রাজি হয়নি পুলিশ। জোর করে আটকে রাখা হয় তাঁকে। এর পরেই পরিবার অভিযোগ তোলে গর্ভপাতের। এমনকি তাঁরা দাবি করেন, তাঁরা মেয়েকে দেখতে যেতেও পারছেন না। যদিও প্রশাসনের তরফে শিশুসুরক্ষা প্যানেলের প্রধান বিদেশ গুপ্ত স্পষ্ট বলেন, "সংবাদমাধ্যম যা বলছে তা মিথ্যা। রবিবার হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তরুণী, তাঁর গর্ভের সন্তান ভাল আছে।"
যদিও একটি সূত্রের দাবি, রবিবার ছাড়া পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ফের তরুণীর পেটে ব্যথা ও রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ফলে আবারও তাঁকে ভর্তি করতে হয় হাসপাতালে। জেলা হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপার সুনীতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, আজ সোমবারও হাসপাতালেই ভর্তি রয়েছেন তরুণী। তিনি বলেন, "আপাতত রক্তপাত হয়নি তাঁর। সব রিপোর্টও ঠিক আছে।"