দ্য ওয়াল ব্যুরো : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার নাগরিকদের কাছে সামাজিক দূরত্ব রাখার আবেদন জানাচ্ছে বার বার। এই অবস্থায় উত্তরপ্রদেশের পিলভিতের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে দেখা গেল পথে নেমে একদল লোকের সঙ্গে কাঁসর-ঘণ্টা ও শাঁখ বাজাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, রবিবার বিকাল পাঁচটার সময় হাততালি দিয়ে অথবা কাঁসর ঘণ্টা বাজিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্মান জানান। পিলভিতের জেলাশাসক ও পুলিশকর্তা ওইভাবে মোদীর নির্দেশ পালন করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরেই নানা মহল থেকে প্রশ্ন ওঠে, সরকারের উচ্চপদস্থ আমলারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখছেন না কেন? পিলভিত পুলিশ অবশ্য কৈফিয়ৎ দিয়েছে, রবিবার কেউ জনতা কার্ফু অমান্য করেনি।
ভিডিওতে দেখা যায়, পিলভিতের পুলিশ সুপার অভিষেক দীক্ষিত শাঁখ বাজাচ্ছেন। জেলাশাসক বৈভব শ্রীবাস্তব থালা বাজাচ্ছেন। তাঁদের ঘিরে হাততালি দিচ্ছে অনেকে। ভিড়ের মধ্যে রয়েছে শিশুরাও।
https://twitter.com/alok_pandey/status/1241758044570050560
পরে পিলভিত পুলিশ টুইট করে জানিয়েছে, "জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার কার্ফু অমান্য করেননি। ওই সময় অনেকে রাস্তায় বেরিয়েছিল। তাঁদের বাড়ি ফিরে যেতে বলা হচ্ছিল। একপেশে রিপোর্ট করা উচিত নয়।"
জেলাশাসককে ওই ভিডিওতে বলতে শোনা গিয়েছে, "প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকে বাসন বাজাচ্ছেন। কেউ হাততালি দিচ্ছেন। আমি আপনাদের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, বাড়িতে ঢুকে পড়ুন। এক জায়গায় অনেকে জড়ো হলে সংক্রমণ বাড়বে।"
এখনও পর্যন্ত বিশ্ব জুড়ে করোনাভাইরাস সংক্রমণ হয়েছে প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের। প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ১৪ হাজার মানুষ।
ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এই নিয়ে মোট ন'জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু'জন বিদেশি নাগরিক। একজন ৬৯ বছরের ইতালীয় পর্যটক যাঁর মৃত্যু হয়েছিল রাজস্থানের জয়পুরে। অন্যজনের মৃত্যু হয়েছে মুম্বইতে। জানা গিয়েছে, এই ব্যক্তি ফিলিপিন্সের বাসিন্দা। রবিবার রাতে মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে বৃহন্মুম্বই পুরসভা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ১৩ মার্চ ভর্তি হন তিনি। ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল ওই বৃদ্ধের। পাশাপাশি কিডনি প্রায় পুরোপুরিই বিকল হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
এদেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সর্বপ্রথম মৃত্যু হয়েছিল কর্নাটকে। মারা গিয়েছিলেন ৭৬ বছরের এক বৃদ্ধ। এরপর ক্রমান্বয়ে দিল্লি, মুম্বই, পাঞ্জাবে মৃত্যু হয়েছে তিন ভারতীয় নাগরিকের। পঞ্চম মৃত্যু হয় জয়পুরে, এক ইতালীয় পর্যটকের। এরপর রবিবার একইদিনে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের। তাঁদের মধ্যে একজন মুম্বই, একজন বিহার এবং আর একজন গুজরাতের বাসিন্দা। বিহারে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ বছরের এক যুবকের। দেশের মধ্যে এই প্রথম এত কম বয়সী কারও মৃত্যু হয়েছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণে। সোমবার মুম্বইতে মৃত্যু হয়েছে এক বিদেশি নাগরিকের।