দ্য ওয়াল ব্যুরো : বিজেপির প্রাক্তন মন্ত্রী স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন আইনের এক ছাত্রী। ২৩ বছরের সেই ছাত্রীকে সোমবার কড়া নিরাপত্তায় আনা হল কোর্টে। তাঁর মুখ ছিল কালো কাপড়ে ঢাকা। উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরে তিনি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) এদিন তাঁকে বিচারকের সামনে পেশ করে। তরুণী আদালতে বিবৃতি দেন। এই বিবৃতির ভিত্তিতে স্বামী চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করবে বিশেষ তদন্তকারী দল।
অভিযোগকারিণী শাহজাহানপুরে যে আইন কলেজের ছাত্রী ছিলেন, তা পরিচালনা করেন স্বামী চিন্ময়ানন্দ। গত ২৩ অগস্ট ওই ছাত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিও পোস্ট করেন। তাতে কারও নাম না করে বলা হয়েছিল, সন্ত সমাজের এক বড় নেতা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তিনি অনেক মেয়ের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। ২৪ অগস্ট থেকে ওই তরুণী নিখোঁজ হয়ে যান। তাঁকে অপহরণের অভিযোগে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিন্ময়ানন্দকে গ্রেফতার করা হয়। চিন্ময়ানন্দ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগকারিণী তাঁর কাছ থেকে তোলা আদায় করতে চাইছেন।
গত ৩ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সিট গঠিত হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তারা চিন্ময়ানন্দকে আট ঘণ্টা জেরা করে। রবিবার ফের তাঁকে জেরা করা হয়। ছাত্রীর পোস্ট করা ভিডিওতে তিন জনকে দেখা গিয়েছিল। তাঁদেরও জেরা করা হয়েছে। শাহজাহানপুরের আইন কলেজ ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজের দুই প্রিন্সিপ্যালকেও জেরা করা হয়েছে।
গত শুক্রবার অভিযোগকারিণীর উপস্থিতিতে সিট ও একটি ফরেনসিক টিম চিন্ময়ানন্দের শোওয়ার ঘরে তল্লাশি করে। অভিযোগকারিণী বলেছিলেন, হস্টেলের একটি ঘরে তিনি চিন্ময়ানন্দের বিরুদ্ধে নানা তথ্যপ্রমাণ লুকিয়ে রেখেছেন। সেই ঘরটি সিল করে রাখা ছিল। অভিযোগকারিণী ও তাঁর বাবার উপস্থিতিতে তদন্তকারীরা সেই ঘরের সিল খোলেন। পরে মেয়েটির বাবা বলেন, মনে হচ্ছে, ঘর সিল করার আগেই কিছু প্রমাণ লোপাট করে দেওয়া হয়েছে।