দ্য ওয়াল ব্যুরো : জোর করে বা অসৎ উদ্দেশ্যে কারও ধর্মান্তর করালে উত্তরপ্রদেশে জেল হবে ১০ বছর। শনিবার ধর্মান্তর বিরোধী বিলে সই করেছেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দীবেন পটেল। উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, এদিন 'প্রহিবিশন অব আনলফুল কানভারসান ওব রিলিজিয়ন অর্ডিন্যান্স ২০২০' জারি করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ জানান, জোর করে অথবা বিবাহের উদ্দেশ্যে ধর্মান্তর বন্ধ করা হবে। সেজন্য একটি অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
নতুন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কেবল বিবাহের উদ্দেশ্যে যদি কোনও মহিলার ধর্মান্তর করানো হয়, তাহলে সেই বিবাহ নাকচ হয়ে যাবে। কেউ যদি বিবাহের পরে ধর্ম পরিবর্তন করতে চান, তাহলে জেলাশাসকের কাছে আবেদন করতে হবে।
দেশ জুড়ে 'লাভ জেহাদ' নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ধর্মান্তর বিরোধী অধ্যাদেশ জারি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার। গত ফেব্রুয়ারিতে সংসদে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল, চলতি আইনে লাভ জেহাদের কোনও সংজ্ঞা দেওয়া হয়নি। কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা লাভ জেহাদ নিয়ে মামলাও করেনি। কিন্তু গত ৬ নভেম্বর কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা বলেন, লাভ জেহাদের নামে যাতে ধর্মান্তরিত না করা হয়, সেজন্য তাঁর সরকার আইন আনতে চায়। একইদিনে হরিয়ানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজ বিধানসভায় জানান, তাঁর রাজ্যের সরকারও লাভ জেহাদের বিরুদ্ধে আইন করার কথা ভাবছে। হিমাচল প্রদেশের সরকার গত বছরই এক আইন পাশ করে বলেছে, গায়ের জোরে, লোভ দেখিয়ে বা বিয়ের নাম করে কারও ধর্মান্তর করা যাবে না।
চলতি সপ্তাহেই তথাকথিত লাভ জেহাদ নিয়ে একটি মামলা নাকচ করে দেয় এলাহাবাদ হাইকোর্ট। গতবছর অগাস্টে উত্তরপ্রদেশে সালামত আনসারি নামে এক মুসলিম যুবক প্রিয়ঙ্কা খারওয়ার নামে এক হিন্দু তরুণীকে বিবাহ করেন। প্রিয়ঙ্কার বাবা-মা সালামতের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। হাইকোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, "কারও ব্যক্তিগত সম্পর্কে বাধা দেওয়া যায় না। তাহলে ব্যক্তিস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়। দু'জন মানুষের পরস্পরকে বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা আছে।"
সালামত আনসারি কুশীনগরের বাসিন্দা। তাঁকে বিবাহের আগে প্রিয়ঙ্কা ধর্মান্তরিত হন। তখন তাঁর নাম হয় আলিয়া। বিয়ের পরেই প্রিয়ঙ্কার বাবা-মা সালামতের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, সালামত তাঁদের মেয়েকে 'অপরাধীর মতো' অপহরণ করেছে। প্রিয়ঙ্কা তাকে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের সময় মেয়েটি ছিল নাবালিকা। তাই সালামতের বিরুদ্ধে কঠোর পকসো আইনে মামলা করা হয়।
এফআইআর বাতিল করার জন্য সালামত কোর্টে আবেদন করেন। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১১ নভেম্বর তাঁর পিটিশন শোনে। ১৪ পাতার অর্ডারে বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি পঙ্কজ নাকভি বলেন, "কোনও ব্যক্তি যে ধর্মেরই মানুষ হোন না কেন, তিনি নিজের খুশিমতো জীবনযাপন করতে পারেন। প্রত্যেকেরই ব্যক্তিস্বাধীনতা আছে।"