
শেষ আপডেট: 26 December 2019 03:35
গত সপ্তাহে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল উত্তরপ্রদেশ। সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করেছিল জনতা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের ওপরে প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে নানা হিংসাত্মক ঘটনায় রামপুরে মোট ১৪.৮৬ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয় বলে প্রাথমিক ভাবে জানানো হয়েছিল। পরে পুলিশ জানায়, মোট ২৫ লক্ষ টাকার সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করেও তারা ইটপাটকেল ছোড়ে। পুলিশও লাঠিচার্জ করে। কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়। গুলিতে একজন নিহত হন। তাঁর বয়স ছিল ২২। এরপর শহরে চারটি মোটর সাইকেল ও পুলিশের ভ্যানে আগুন লাগানো হয়।
এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৩৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৬ জনকে জেলে পাঠানো হয়েছে।
সম্প্রতি যে ২৮ জনের কাছে নোটিস পাঠানো গিয়েছে, তাদের বলা হয়েছে, পুলিশের হেলমেট ও ব্যাটনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ করার জন্য টাকা দিতে হবে। এর আগে উত্তরপ্রদেশের মুজফফর নগরে ৬০টিরও বেশি দোকান বন্ধ করে দেয় সরকার। অভিযোগ ওই দোকানের মালিকরা হিংসাত্মক কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
লখনৌয়ে কারা পুলিশের উপরে চড়াও হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে চার সদস্যের একটি কমিটি। এই কমিটিতে রয়েছেন ফিরোজাবাদের জেলাশাসক চন্দ্র বিজয় সিং। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁরা হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।
বেশ কয়েকটি জেলা প্রশাসন ও জেলাপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই দাঙ্গাবাজদের চিহ্নিত করার কাজ তাঁরা শুরু করে দিয়েছেন।
মুজফফর নগরে সরকারের দ্রুত এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের ১ অক্টোবর সর্বোচ্চ আদালত যে রায় দিয়েছিল তাকেই হাতিয়ার করেছে উত্তরপ্রদেশ রাজ্য প্রশাসন। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, কোনও ব্যক্তি সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, তাকেই সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ ব্যাপারে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সরকারি সম্পত্তির যারা ক্ষতি করবে, তাদের ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তিও দিতে বলেছিল সর্বোচ্চ আদালত।