দ্য ওয়াল ব্যুরো : আগামী ২৩ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত উত্তরপ্রদেশে সব স্কুলে অ্যানুয়াল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে দেখা দিয়েছে করোনাভাইরাসের আতঙ্ক। বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজ। তাহলে পরীক্ষা হবে কীভাবে? বুধবার উত্তরপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, ক্লাস ওয়ান থেকে এইট পর্যন্ত কোনও পরীক্ষা হবে না। বিনা পরীক্ষাতেই পাস করে যাবে ছেলেমেয়েরা।
উত্তরপ্রদেশের শিক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব রেণুকা কুমার মঙ্গলবার রাতে জানান, “সব ছাত্রছাত্রীকে প্রমোশন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২ এপ্রিল অবধি স্কুল বন্ধ থাকবে।” ওই দিন পর্যন্ত সিনেমা, মাল্টিপ্লেক্স ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিও বন্ধ থাকছে। কম্পিটিটিভ পরীক্ষাও বন্ধ রাখা হবে।
আমাদের দেশে মোট ১৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। মারা গিয়েছেন তিনজন। মহারাষ্ট্রেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন ওই রোগে। সেই রাজ্যে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরভোট। শহরে শিক্ষায়তনগুলি বন্ধ রাখা হয়েছে। মহামারী মোকাবিলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ৪৫ কোটি টাকার তহবিল বানিয়েছেন। মুম্বইয়ে ২২০ বছরের পুরাতন সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে সোমবার বলেন, “কেউ কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হওয়া মানে এই নয় যে তিনি অপরাধী। তাঁদের যথাযথ চিকিৎসা করানো প্রয়োজন। এ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।”
কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত সন্দেহে ওই রাজ্যে যাঁদের কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে পালিয়ে গিয়েছেন ১৩ জন। বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বেগে রয়েছে রাজ্য সরকার। কারণ যারা পালিয়ে গিয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে ওই রোগ। তাঁদের ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ। এরপরে কেউ পালালে যাতে সহজে চেনা যায়, সেজন্য তাঁদের বাঁ হাতে কালির ছাপ দেওয়া হবে। মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপী একথা জানিয়েছেন।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ভর্তি থাকা ১১ জন মুম্বইয়ের একটি হাসপাতাল থেকে পালিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁরা দুবাই থেকে দেশে ফিরেছিলেন। নবি মুম্বইয়ের একটি সরকারি হাসপাতালে তাঁরা ভর্তি ছিলেন। এই ঘটনার পরে রোগীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়েও। কারও গাফিলতি না থাকলে একসঙ্গে কী ভাবে ১১ জন পালিয়ে গেলেন হাসপাতাল থেকে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।