আত্মহত্যা ধর্ষিতা তরুণীর, লাগাতার খুনের হুমকি পরিবারকে, উন্নাওয়ের পরে ফের লজ্জা উত্তরপ্রদেশের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মতোই সাহসী ছিল মেয়েটা। ধর্ষণের মামলা ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি। তারই খেসারত দিতে হচ্ছিল সবসময়। ধর্ষকদের লাগাতার হুমকি তো ছিলই, পাল্টা নির্যাতিতার বিরুদ্ধেই প্রতারণার মামলা দায়ের করেছিল অভিযুক্তরা। তরুণীর
শেষ আপডেট: 7 January 2020 18:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মতোই সাহসী ছিল মেয়েটা। ধর্ষণের মামলা ফিরিয়ে নিতে রাজি হয়নি। তারই খেসারত দিতে হচ্ছিল সবসময়। ধর্ষকদের লাগাতার হুমকি তো ছিলই, পাল্টা নির্যাতিতার বিরুদ্ধেই প্রতারণার মামলা দায়ের করেছিল অভিযুক্তরা। তরুণীর পরিবারের দাবি, একের পর এক মানসিক আঘাতে বিপর্যস্ত তরুণী শেষে আত্মহত্যার পথই বেছে নেয়। সোমবার তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
উন্নাওয়ের গণধর্ষিতা তরুণীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনার একমাস পরে ফের এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল উত্তরপ্রদেশের বারাবনি জেলায়। গত বছর সেপ্টেম্বরে আইনের ছাত্রী ২১ বছরের তরুণীর উপর নৃশংস শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে দু’জনের বিরুদ্ধে। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনায় আরও অনেকে জড়িত ছিল। ধর্ষণের অভিযোগ নিতেই চায়নি পুলিশ। পাল্টা দোষ চাপানোর চেষ্টা হয়েছিল নির্যাতিতার উপরেই।
তরুণীর মায়ের অভিযোগ, লাগাতর খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে তাদের পরিবারকে। জাহাঙ্গিরবাদ থানায় ধর্ষণ, খুন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের হুমকির কারণেই মেয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি মায়ের।

বারাবাঁকি সিভিল কোর্টে আইনজীবী হরিশ কুমার মিশ্রের অধীনে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করছিলেন ওই তরুণী। থাকতেন এক আত্মীয়ার বাড়িতে। গত বছর ২ সেপ্টেম্বর টিকাইটনগরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন তরুণী। ফিরতে রাত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নির্যাতিতার শেষ বয়ান মতো, শিব কুমার ও শিব পল্টন নামে দুই যুবক তাঁকে গাড়িতে লিফট দিতে চায়। তরুণী প্রথমে রাজি হননি। পরে গাড়িতে উঠলে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে দু ‘জন। ক্ষতবিক্ষত শরীরে তরুণীকে রাস্তার মাঝেই ফেলে চলে যায় তারা। নির্যাতিতা জানিয়েছিলেন, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে তাঁর উপর নির্যাতন চালানো হয়। পুলিশকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। নির্যাতিতার পরিবারের দাবি, ঘটনার পরদিন থানায় গেলে অভিযোগ নিতেই চায়নি পুলিশ। পরে জানানো হয়, দুই অভিযুক্ত নাকি তাঁদের বিরুদ্ধেই ৪০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তরুণীর মা জানিয়েছেন, তাঁদের পরিবারের উপর চাপ তৈরি করার জন্যই নানারকমভাবে মামলা সাজিয়েছিল অভিযুক্তরা।
নির্যাতিতার আত্মহত্যার পরেই ক্ষোভের আগুন জ্বলেছে বারাবনিতে। পুলিশি গাফিলতির অভিযোগ উঠেছে। যদিও বারাবাঁকির এসপি আকাশ তোমর দাবি করেছেন, ধর্ষণ হয়েছিল কিনা তার সঠিক প্রমাণ নেই। মেডিক্যাল পরীক্ষায় যৌন নির্যাতনের প্রমাণ মেলেনি। আর তরুণীর বাবা আত্মহত্যার কথা বলেছিলেন, কারও নামে অভিযোগ দায়ের করেননি।