দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহ পরে ধরা পড়ল হাপুর ধর্ষণকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত দলপত। উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলায় বছর ছয়েকের শিশুকন্যাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছিল তিনজনের বিরুদ্ধে। অপরাধীদের নাগাল পেতে তাদের স্কেচ সামনে এনেছিল হাপুর জেলার পুলিশ। তাতেও অভিযুক্তদের খোঁজ না মেলায় দিনকয়েক আগে ওই দলের পাণ্ডা দলপতের ছবি প্রকাশ্যে আনে পুলিশ। অপরাধীকে ধরিয়ে দিতে পারলে নগদ পুরস্কারের ঘোষণাও করা হয়। এই দলপতই ধরা পড়ল এতদিন পরে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের খোঁজে হাপুর ও তার আশপাশের জেলায় এতদিন চিরুনি তল্লাশি চলছিল। দলপতকে হাপুরেরই একটি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধরা পড়ার আগে বেশ কিছুদিন ধরে পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরি খেলছে দলপত। নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। একবার নদীর ধারে নিজের কিছু জামাকাপড় ও সুইসাইড নোট ছেড়ে গিয়েছিল সে। সেই চিঠিতে লেখা ছিল, “আমি পুলিশের এনকাউন্টারে মরতে চাই না। তাই আত্মহত্যা করছি।”
হাপুর জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, দলপতকে জেরা করে বাকি দু’জনের খোঁজ পাওয়া যাবে। তারাও হাপুরেরই কোথাও গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
দিল্লি থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে উত্তরপ্রদেশের হাপুর জেলার গড় মুক্তেশ্বর এলাকার বাসিন্দা ওই শিশুকন্যা। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তার উপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছিল তিন যুবক। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরবাইকে করে এসে শিশুকন্যাকে অপহরণ করেছিল তিনজন। তারপর নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালানো হয়। গ্রামের বাইরে একটি ঝোপের ভেতর থেকে অচৈতন্য অবস্থায় বাচ্চা মেয়েটাকে উদ্ধার করা হয়।
তদন্তকারী অফিসাররা বলেছিলেন, ছোট্ট শরীরটাতে কালশিটের দাগ পড়ে গিয়েছিল, চাপ চাপ রক্ত জমে ছিল। জামাকাপড়ও রক্তে মাখামাখি ছিল। শিশুটিকে সারা শরীরে মারধরের দাগ ছিল স্পষ্ট। ধর্ষণের প্রমাণও মিলেছে। মেরঠের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে শিশুটির। তার অবস্থা সঙ্কটজনক বলে জানিয়েছেন ডাক্তাররা। এক সপ্তাহেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।
নির্যাতিতা শিশুকন্যার পরিবারের বক্তব্য ও প্রতিবেশীদের বয়ান শুনে প্রথমে তিন অভিযুক্তের স্কেচ সামনে এনেছিল পুলিশ। কিন্তু অভিযুক্তদের খোঁজ মেলেনি। পুলিশ কুকুর নামিয়ে হাপুর জেলা ও তার সংলগ্ন এলাকা তন্ন তন্ন করে খুঁজেও অভিযুক্তদের পাকড়াও করা যায়নি। এরপরেই অপরাধীদের খোঁজ পেতে দলপতের ছবি প্রকাশ্যে আনে পুলিশ, ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের কঠিন শাস্তি দেওয়া হবে।