দ্য ওয়াল ব্যুরো : পপস্টার রিহানা থেকে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ। গত কয়েকদিনে টুইট করে দিল্লির কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকেই। তাঁদের মধ্যে ব্রিটেন ও আমেরিকার আইনসভার কয়েকজন সদস্যও আছেন। বুধবার তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া বিবৃতি দিল মোদী সরকার। সরকারের বক্তব্য, অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় নানারকম আপত্তিকর হ্যাশট্যাগ দেওয়া হচ্ছে। একটা কথা মনে রাখা দরকার, দেশের কৃষকদের খুব সামান্য অংশই এই আন্দোলনে শামিল হয়েছেন।
https://twitter.com/rihanna/status/1356625889602199552
https://twitter.com/GretaThunberg/status/1356694884615340037
বিদেশমন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে বলেছে, "আমরা জোর দিয়ে বলতে চাই, কৃষকদের আন্দোলনকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হিসাবেই দেখা উচিত। সরকার চেষ্টা করছে যাতে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যায়।" বিদেশ থেকে যাঁরা কৃষকদের সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, "এসব ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করে কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। কী হচ্ছে, তা ভাল করে বোঝা উচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন হ্যাশট্যাগ দেওয়া উচিত নয় যা উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। সেলিব্রিটিদের আরও দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করা উচিত।"
সরকার জানিয়েছে, সংসদে আলোচনা ও বিতর্কের পরে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের জন্য আইন করা হয়েছিল। এর ফলে কৃষকরা খুশিমতো বাজারে ফসল বিক্রি করতে পারবেন। সরকারের দাবি, এই আইনগুলির ফলে চাষে খরচ কম লাগবে। বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করে চাষ করা সম্ভব হবে।
বিদেশমন্ত্রক বলেছে, কৃষকদের খুব সামান্য অংশই নতুন আইন নিয়ে আপত্তি করছেন। সরকার বিক্ষোভকারীদের ভাবাবেগকে সম্মান করছে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলছে। সরকার আপাতত আইনগুলি স্থগিত রাখার কথা বলেছে। খোদ প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের এই আশ্বাস দিয়েছেন।
বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, এত কিছুর পরেও কায়েমি স্বার্থবাহী কোনও কোনও গোষ্ঠী কৃষক আন্দোলনের ওপরে নিজেদের কর্মসূচি চাপিয়ে দিতে চাইছে। তারা এই আন্দোলনকে বিপথগামী করতে চায়। এই 'কায়েমি স্বার্থবাহী গোষ্ঠী' বিদেশে কৃষক আন্দোলনের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলে সরকারের দাবি। বিদেশমন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "কায়েমি স্বার্থবাহী কেউ কেউ বিদেশে ভারতের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছে। তাদের উস্কানিতেই বিদেশে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির অসম্মান করা হয়েছে। ভারত তথা সারা বিশ্বে সভ্য সমাজের কাছে এই ঘটনা অত্যন্ত আপত্তিকর।"
সরকারের দাবি, পুলিশ অত্যন্ত সংযতভাবে কৃষক বিক্ষোভের মোকাবিলা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটা কথা খেয়াল করা দরকার। পুলিশের শত শত নারী ও পুরুষ কর্মী আক্রান্ত হয়েছেন। কয়েকটি ক্ষেত্রে তাঁদের ছুরি মারা হয়েছে।