দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার গভীর রাত। শহরের অনেকটা অংশই ঘুমে তলিয়ে। আচমকা বিকট এক অজানা দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ল সারা শহরে! এতটাই গন্ধ, যে ঘুম ভাঙিয়ে দেয় সেই গন্ধ। যাঁরা জেগে ছিলেন, তাঁরা রীতিমতো ভয় পেয়ে গিয়ে ভাবেন, কোথাও কোনও গ্যাস লিক করল নাকি! মুম্বইয়ের পশ্চিম এবং পূর্ব শহরতলির এই অজানা দুর্গন্ধ ঘিরে রাত থেকেই শুরু হয়ে যায় জোর জল্পনা। সকালেও কমেনি গন্ধের তীব্রতা। আতঙ্ক বাড়তে থাকে ক্রমশ।
প্রাথমিক ভাবে অনেকে বলাবলি করতে থাকেন, মুম্বইয়ের চেম্বুর শহরতলির রাষ্ট্রীয় কেমিক্যাল ফার্টিলাইজারের কারখনাা থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে এই অজানা গ্যাস। কিন্তু পরে গ্রেটার মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের তরফে নিশ্চিত করা হয় য়ে, প্লান্ট থেকে কোনওরকম গ্যাস লিকেজের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত দশটার পর থেকেই এই গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর বিস্তার ও তীব্রতা দুই-ই বাড়ে। প্রধানত চেম্বুর, মানখুর্ড, গোবান্দি, চান্দিভালি, পোয়াই, ঘটকোপার এবং আন্ধেরিতেই এই দুর্গন্ধ সব চেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়েছে বলে সূত্রের খবর।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও বিপদের খবর মেলেনি। ঠিক কিসের গন্ধ বেরোচ্ছে এ ভাবে, তা-ও বোঝা যায়নি। শুক্রবার সকাল থেকে দ্য মহানগর গ্যাস লিমিটেডের কাছে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু অভিযোগ এসে জমা পড়তে শুরু করে। তবে তাদের তরফেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তাদের বিভিন্ন ব্রাঞ্চের পাইপ লাইনে এখনও পর্যন্ত কোনো লিকেজ ধরা পড়েনি।
সারা শহর জুড়ে যে সমস্ত জায়গায় ওই দুর্গন্ধের প্রাথমিক সম্ভাব্য উৎস বলে মনে করা হচ্ছে, সেই সব জায়গা ভাল করে খতিয়ে দেখার জন্য দমকলের একাধিক ইঞ্জিন ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মহানগর গ্যাস লিমিটেডের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের হেল্পলাইন নম্বরে প্রায় ২৯টি অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন।
যদিও গ্রেটার মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন জানিয়েছে, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই গন্ধ অনেকটাই কমেছে। তবে তার আগেই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে খালি করে দেওয়া হয় বেশ কয়েকটি বহুতল। কোথাও কোথাও ডাকা হয় দমকলও। তবে দীর্ঘ সময় ভাল করে খতিয়ে দেখার পরে, রাষ্ট্রীয় রাসায়নিক সার কেন্দ্রের পাইপলাইনে কোনও লিক হয়নি বলেই জানানো হয়েছে।