দ্য ওয়াল ব্যুরো : তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ব্রিগেড সভায় লোক উপচে পড়ছে শনিবার সকালেই। শুক্রবারই কলকাতায় পা রেখেছেন জাতীয় স্তরের বিজেপি বিরোধী নেতারা। এর মধ্যে টুইটারে ব্রিগেডের সভাকে কটাক্ষ করলেন বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। এক টুইটে তিনি ব্রিগেডের জনসভাকে বলেছেন দুর্নীতিবাজদের সমাবেশ। তারা শুধু বড় বড় কথা বলে।
অপর এক টুইটে বাবুল বলেছেন, ‘ব্রিগেড চলো’ স্লোগান না দিয়ে তাদের বলা উচিত ছিল, ‘চলো, দেশের উন্নতি করি’। তাহলে হয়তো কাজের কাজ কিছু হত। সমাবেশের জন্য রাস্তায় যানবাহন থমকে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের হেনস্তা হচ্ছে। তৃণমূল কি সত্যিই মানুষের কল্যাণ চায়? আমি সকলের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, শনিবার রাস্তায় বেরিয়ে কী সমস্যায় পড়েছেন আমাদের জানান।
https://twitter.com/SuPriyoBabul/status/1086475978631729152
গত মাসখানেক ধরে প্রস্তাবিত রথযাত্রা নিয়ে বিজেপির সঙ্গে জোর লড়াই চলছে তৃণমূলের। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কিছুতেই সেই রথযাত্রা করতে দিতে রাজি নয়। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে অশান্তি ছড়িয়ে পড়বে। রথযাত্রা করার আর্জি নিয়ে বিজেপি আদালতে গিয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টও জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্য সরকারের আশঙ্কা অমূলক বলা যায় না। আপাতত ওই কর্মসূচি বন্ধ রাখতে হবে।
বাবুল সুপ্রিয় আগেও তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘তোষণের রাজনীতি’ করার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি কখনও বলেনি রথযাত্রা করবে। বিজেপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে সরকারই ‘রথযাত্রা’ নাম দিয়েছে যাতে মনে হয় বিরোধীরা রাজ্যে সাম্প্রদায়িক কর্মসূচি নিচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, এদিন ব্রিগেডে আসবেন ৪০ লক্ষ মানুষ। বর্তমান শতাব্দীর সবচেয়ে বড় জনসমাবেশ হবে শুক্রবার। সেজন্য ব্রিগেডে তৈরি হয়েছে বিশাল মঞ্চ। বসানো হয়েছে ২০ টি ওয়াচটাওয়ার, এক হাজার মাইক্রোফোন, এবং ৩০ টি এলইডি স্ক্রিন। সভাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য থাকছেন ১০ হাজার নিরাপত্তা রক্ষী।
সর্বভারতীয় নেতাদের মধ্যে এদিন ব্রিগেডের সভায় থাকছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, তাঁর ছেলে তথা কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, শরদ পাওয়ার, ফারুক আবদুল্লা, শরদ যাদব, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, হেমন্ত সোরেন এবং অরুণাচল প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গেগং আপাং।
বিজেপি আগেই বলেছে, যে নেতারা ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন, যাঁদের নিজেদের রাজ্যেই জনপ্রিয়তা নেই, তাঁরাই আসছেন শনিবারের জনসভায়। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা করার পরিকল্পনা করেছে বিজেপিও।