
শেষ আপডেট: 16 January 2024 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: চুনো-পুঁটি তো আছেই। ৩৫ কেজির বাঘা আড়, রুই, কাতলা, ইলিশ, ভেটকিও পাওয়া যাচ্ছে সেখানে। সঙ্গে, শংকর মাছ, কাঁকড়াও রয়েছে। পৌষ সংক্রান্তির পরেই হুগলির দেবানন্দপুরের কেষ্টপুরে বসে মাছের এই অভিনব মেলা।
দূর দূরান্ত থেকে বহু ব্যবসায়ীরা মাছের পসরা সাজিয়ে বসেন এই মেলায়। হুগলি ছাড়াও বর্ধমান, হাওড়া, নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া থেকেও মানুষ আসেন। কিনে নিয়ে যান কাঁচা মাছ। শুধু মাছ কেনাই নয়, জমিদারদের আমবাগানে মাছ ভাজার স্টল ঘিরে চলে পিকনিক।
কেষ্টপুর এলাকার জমিদার ছিলেন গোবর্ধন গোস্বামী। তাঁর ছেলে রঘুনাথ দাস ছিলেন মহাপ্রভুর ভক্ত। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি সন্ন্যাস নেবেন বলে গৃহত্যাগী হন। পানিহাটিতে মহাপ্রভুর তৎকালীন পারিষদ নিত্যানন্দের কাছে দীক্ষা নেওয়ার ইচ্ছে জানান। বয়স কম হওয়ায় রঘুনাথকে ফিরিয়ে দেন নিত্যানন্দ। দীর্ঘ ৯ মাস পরে রঘুনাথ বাড়ি ফিরলে জমিদারের কাছে স্থানীয়রা কাঁচা আমের টক ও ইলিশ মাছ খাওয়ার আবদার করেছিলেন। শীতকালেও প্রজাদের সে আবদার রাখেন গোবর্ধন গোস্বামী। তারপর থেকেই পাঁচশ বছর ধরে পয়লা মাঘ কেষ্টপুরে এই মাছের মেলা হয়ে আসছে। সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু হওয়ার দিন মেলা হয় বলে এই মেলার নাম উত্তরায়ণ মেলা হলেও কেষ্টপুরের মানুষের কাছে এটি মাছের মেলা নামে পরিচিত।
মেলা প্রাঙ্গণের কাছেই রয়েছে রাধা গোবিন্দর মন্দির। সেখানেও নামে ভক্তদের ঢল। সকাল সকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে অনেকেই চলে যান মাছের মেলায়। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের মাছ কিনে বাড়ি ফেরেন।
এদিন মাছের মেলা দেখতে এসেছিলেন বাবলু দাস। তাঁর আড় মাছ খুব পছন্দ। মেলায় এসে মস্ত বড় সাইজের দুটি আড় মাছ কিনেছেন। তিনি বলেন, ‘আড়, ট্যাংরা ছাড়াও কাতলা, ভেটকি, চিতল সমস্ত ধরনের মাছ রয়েছে এই মেলায়। কী ছেড়ে কী কিনব তা ভেবে কুলকিনারাই পাচ্ছিলাম না।‘
এদিন মেলা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার। তিনি বলেন, উত্তরায়ণ উপলক্ষে মেলা বসে কেষ্টপুরে। এই মেলা মাছের মেলা নামেও পরিচিত। মেলা যাতে সুষ্ঠভাবে হয় সে জন্য দেবানন্দপুর পঞ্চায়েতকে আগাম ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মেলায় আসা এক মহিলা মুনমুন হাওলাদার বলেন, পরিবার নিয়ে পিকনিক করতে এসেছি। যেহেতু মাছের মেলা, তাই কয়েকরকম মাছের পদ রান্না হচ্ছে। মাংস হবে না।