৯২ হাজারের বেশি ভোটে তাপসকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সুদীপ। কমিশনের দেওয়া শেষ তথ্য বলছে, এই কলকাতা উত্তরেই এখন আন-কালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা এসে ঠেকেছে সাড়ে ৩ লক্ষে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাপস রায়
শেষ আপডেট: 5 December 2025 21:05
কলকাতা উত্তর (Kolkata Uttar) যে প্রতিবারই ভোটের রাজনীতিতে খুব চমকপ্রদ বিরোধিতার সাক্ষ্য দেয়, তা নয়। গোটা বাংলা জানে, সাম্প্রতিক অতীতে সেখানে ভোট হয় সাধারণত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখেই। সেই কেন্দ্রেই গত লোকসভা নির্বাচনে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল। সৌজন্যে, তাপস রায়ের দলবদল। কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, তৃণমূলের (TMC) নিজস্ব দ্বন্দ্বও নাকি উত্তরের পথের কাঁটা। কিন্তু ভোটের ফলাফলে শেষ হাসি হেসেছিলেন তৃণমূলের সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ই। এসআইআর আবহে কমিশন যখন এই কলকাতা উত্তরের আন-কালেক্টেবল ফর্মের পরিসংখ্যান দিচ্ছে, তখন সেখানকার সমীকরণ বদলে যাবে কিনা, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
উত্তর কলকাতার রাজনৈতিক মানচিত্র তাপস রায় হাতের তালুর মতোই চেনেন। সংগঠনেও তিনি দক্ষ। তবে, দলবদল করা নেতার প্রতি জনতার যে সন্দেহ-সংশয় তাও একই সঙ্গে কাজ করছিল লোকসভা নির্বাচনে। বিজেপি অবশ্য চেষ্টার কসুর করেনি। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাপস রায়ের সমর্থনে এসে শ্যামবাজার থেকে সিমলা স্ট্রিট পর্যন্ত জাঁকজমক রোড শো করেন।
কিন্তু, ওই একই রুটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শো দেখিয়ে দিয়েছিল, উপর উপর কলকাতা উত্তরে পদ্ম ফোটার আদর্শ পরিবেশ থাকলেও, ঘাসফুলের দাপটই আলাদা। ৯২ হাজারের বেশি ভোটে তাপসকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সুদীপ। কমিশনের দেওয়া শেষ তথ্য বলছে, এই কলকাতা উত্তরেই এখন আন-কালেক্টেবল ফর্মের সংখ্যা এসে ঠেকেছে সাড়ে ৩ লক্ষে।
এই আন-কালেক্টেবলের মধ্যে রয়েছে মৃত, পাওয়া যায়নি বা অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ভোটার, ডুপ্লিকেট এবং অন্যান্যদের নাম। আর ঠিক এই তথ্য ধরেই দ্য ওয়ালে বিজেপির পরাজিত প্রার্থী তাপস রায়ের পাল্টা প্রশ্ন, "এবার বুঝুন ঠিক কীভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমায় হারিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে, কমিশনের পরিসংখ্যান যা বলছে, সেই সংখ্যার সবাই কি তৃণমূলের? উত্তরে, তাপস রায় বলেন, "একদমই তাই। ভোটের দিন বেলা তিনটের পর যত ডুপ্লিকেট, মৃত ভোটারদের ভোটগুলো তৃণমূলের দিকেই পড়ত। ছাপ্পা হত।" কিন্তু তিনিও তো এই তৃণমূলেই ছিলেন এতদিন... প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি নেতা বললেন, "এসবের জন্যই তো দলটা ছেড়ে দিলাম।"
প্রশ্ন হল, ১৫ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ চলে গেলে কলকাতা উত্তরের ছবিটা কি বদলে যেতে পারে? পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তবে এই পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতোই। কারণ, গড়ে প্রতিটি বিধানসভায় প্রায় ৫০ হাজারে এনুমারেশন ফর্ম আনকালেকটেবল। অর্থাৎ কলকাতা উত্তরের প্রতিটি বিধানসভায় গড়ে ৫০ হাজার করে ভোটার কমে যেতে পারে।
এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও চলছে। ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ফর্ম জমা নেওয়া চলবে। এখন দেখার সংখ্যাটা প্রকৃত পক্ষে কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।